
চাঁদপুর জেলার ১শ ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সকল প্রকার কাজ-কর্ম চলছে। এ ছাড়া ৩ শ ৩০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধানশিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের ঔ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এ ছাড়াও জেলায় ৫২ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও দীর্ঘদিন যাবত শূন্য থাকায় স্কুলগুলো নিয়মিত মনিটরিং ব্যাহত হচ্ছে ।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলার ১ হাজার ১শ ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১শ ৯৩ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষক রয়েছে ৬ হাজার ৯শ ৭৪ জন। ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৩শ ৫০ জন। ক্লাস্টার রয়েছে ৪৬টি,সাব- ক্লাস্টার ২শ ২৫টি। ভর্তির হার ৯৯.৯৮% ও ঝরে পড়ার হার ৮.৭৩%।
এসব স্কুলগুলোর মাঠ পর্যায়ের কাজ, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য, ম্যানেজিং কমিটির কর্মতৎপরতা ও সভার কার্যবিবরণী পর্যবেক্ষণ,স্কুলগুলোর লেখাপড়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাসিক রিপোর্ট পেশ করতে হয়। এ ছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষিকিাগণের হাজিরা সম্পর্কিত তথ্য বিবরণীতে ঔ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক মাসিক বেতনভাতা ছাড় দেয়া হয়। এসব কাজকর্ম নিয়মিত ও হালনাগাত করতে ভাড় দেয়া কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে সহকারী শিক্ষকের ৩ শ ৩০টি পদ শূন্য নিয়েই চলছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে শিক্ষা অফিসগুলোতে প্রায় ৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের মধ্যে উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক,অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদে ৫৫টি পদে জনবল শূন্য রয়েছে। এসব পদে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক পদায়ন হবে পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির মাধ্যমেই বেশি নিয়োগ হবে।
বছরে জেলার প্রতি বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার এবং ঊর্ধ্বে ৭০ হাজার দৈনন্দিন খরচ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। স্কুল বুঝে বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দে মূলত চক, ডাস্টার, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল আনুসাঙ্গিক খরচ করা হয়। যা স্লিপের মাধ্যমে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে কিছু স্কুলে এ বরাদ্দ পুরোপুরি খরচ করা হয় না। সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার ১৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ১ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা কাটিয়ে উঠতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয় মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আবার অনেকগুলোতে কাজ চলমান।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ জনবল সংকট রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য রয়েছে ৩শ ৩০ জন। সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ হবে এবং প্রধান শিক্ষক পদে প্রমোশন দিয়ে শূন্যপদ পূরণ হবে বলে জানান। উচ্চমান সহকারী,অফিস সহকারী পদে নিয়োগ অতিদ্রুত হবে। পদোন্নতি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ হলে প্রাথমিক শিক্ষা আরো বেগবান হবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী প্রধানশিক্ষক পদে সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়, সচিব কমিটি ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে এ বিষয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৯ হাজার ৫শ ৭২টি পদ সৃজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নির্দেশক্রমে জ্ঞাপন করা হয়েছে।
সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫শ ৬৬টি পদ সৃজনের জন্য সুপারিশ করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে হিসাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি হতো। তবে প্রাথমিকভাবে যেসব বিদ্যালয়ে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ের জন্য এ পদ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
আবদুল গনি
৫ নভেম্বর ২০২৪
এজি

বি. দ্র: সংবাদ ও সংশ্লিষ্ঠ ছবি হলো একটি পত্রিকার প্রাণ। তাই সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ কপি করে নিলে আপত্তি নেই। তবে কারও নাম ব্যবহার না করলে এবং ‘সূত্র সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ লিখলে খুশি হবো।—সম্পাদনা বিভাগ
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ অনলাইন পত্রিকা