চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় হাজীগঞ্জ,শাহরাস্তি,কচুয়া তিন উপজেলায় গ্রাহকদের ওপর ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে,চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় তিন উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫শ ১২ জন।
সম্প্রতি বিতরণকৃত জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল পেয়ে অনেক গ্রাহকই হতবাক। সাধারণত: যাদের বিল তিন-চারশ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে,তাদের অনেকের হাতে গিয়েছে হাজার থেকে বারোশ টাকার বিল। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলার কারণে গ্রাহকদের গাড়ে দিচ্ছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল। এ ভৌতিক বিলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ,পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় ব্যক্তির অবহেলা,দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই এমনটি হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও খুব বেশি প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। এটাকে ভৌতিক বিল বা ভুতুরে বিল বলে আখ্যায়িত করছেন গ্রাহকরা।
পৌর এলাকার জসিম উদ্দিন বলেন,‘প্রতি মাসে কারেন্ট বিল আসত ৫শ-৮শ টাকা। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ৫শ টাকার অধিক। খবর নিয়ে দেখলাম প্রতিটা পরিবারের কারেন্ট বিলের একই অবস্থা। আগের চেয়ে দ্বিগুণ,তিন গুণ। হঠাৎ কেন এমন হলো- জানি না।’
তবে বিদ্যুৎ অফিসে গেছিলাম অভিযোগ করার জন্য,ওরা বলে গরম বাড়ছে,ফ্যান চললে বেশি বিল আসে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পরিমাণ দেখার লোক প্রতিমাসে ঠিকমতো মিটারের কাছে না এসে অনুমানভিত্তিক বিল করার এমন ঘটনাও ঘটছে। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে তা-ই বিলের কপিতে উঠবে।
কিন্তু প্রতিমাসে বিদ্যুতের বিল দ্বিগুণ-তিনগুণ করে বাড়ছে। এ ছাড়া প্রথম সংযোগের সময় মিটারের টাকা জমা দেওয়া হয়। আবার কেন প্রতি মাসে প্রতিটা মিটারের চার্জ নেন। এরকম কি আজীবন জনগণের টাকা ডাকাতি করবেন?
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,প্রতি বছর জুন ক্লোজিংয়ের সময় অন্য মাসের চেয়ে বিল একটু বেশি হয়। এ ছাড়া হয়ত আগের মাসে বিল কম ধরা হয়েছে তাই এ মাসে বেশি বিল এসেছে, মিটারের সঙ্গে আপনারা মিলিয়ে দেখেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (অ.দা.) গোবিন্দ আগর ওয়ালা বলেন, ‘ভুতুরে বিল হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক বিল এসে থাকলে মিটারে সমস্যা থাকতে পারে। এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হলে ভুক্তভোগী গ্রাহককে অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। মিটার পরীক্ষাসহ মিটারের আগের ও পরের ব্যবহৃত ইউনিট দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন,‘দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’
শাখাওয়াত হোসেন শামীম
২ জুলাই ২০২৫
এজি

সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ অনলাইন পত্রিকা