Friday , 2 October 2026
minar

ইতিহাস-ঐতিহ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স-৩য় পর্ব

চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী জনপদের নাম হাজীগঞ্জ। এখানকার জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ বর্তমানে মুসলমান। নদীমাতৃক পলিমাটির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে হাজীগঞ্জ জনপদ। হাজীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রধান স্থাপত্য নিদর্শন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ।

এটি বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন, আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। কালের বিবর্তনে মসজিদটি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।চাঁদপুর জেলাবাসীর প্রাণপ্রিয় এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের এ গৌরবােজ্জ্বল ও অনন্য প্রতিষ্ঠানটি আল্লাহর অলীগণের রুহানী ফয়েজ ও বরকতে শিরক-বিদাত মুক্ত ‘এবাদতের মারকাজ’ হিসেবে খ্যাত।

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের কারামত, ও ফয়েজ-বরকতে ‘পূণ্যভূমি হাজীগঞ্জ’ আজ ধন্য এবং গৌরবান্বিত। তাছাড়াও উক্ত প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিহাস প্রসিদ্ধ আরও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ শুভাগমন করেছেন। একজন সাধারণ ব্যবসায়ী তাঁর নিজের সম্পদ-সম্পত্তি, মেধা-প্রজ্ঞা দিয়ে আখেরাতকে পাওয়ার আশায় তৎসময়ে পূর্ব বাংলার মুসলমান জনসংখ্যার তুলনায় বিশাল আয়তনের মসজিদ নির্মাণ করে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আল্লাহ প্রেমের প্রদিপ্ত শিখায় নিবেদিত প্রাণ বান্দাদের জন্য যুগ যুগ ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ:)। তথ্য কণিকা তয় পর্ব :

১৩০১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেল কোম্পানি মেঘনার পূর্ব পাড়ে রেল লাইন চালু করেন অন্যান্য স্থানের ন্যায় হাজীগঞ্জেও তখন রেল স্টেশন স্থাপিত হয়। মনাই হাজী (রহ.) ‘র দৌহিত্র আহমাদ আলী পাটওয়ারীও ধারাবাহিকভাবে তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত করতে থাকেন। মুদি পণ্যের দোকানের পাশাপাশি তিনি বার্মা থেকে আনা মূল্যবান কাঠের বড় আড়ৎ খােলেন।

কেরােসিন তেলের এজেন্সি গড়ে তােলেন। মােমবাতি ও সাবানের ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া বড় জেনারেটর বসিয়ে বিদযুৎ উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীকালে মূল বাজার এলাকায় আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ) আরও কিছু জমি ক্রয় করেন। এ এলাকায় পাট ব্যবসায়ী ইংরেজ বণিকগণ কয়েকটি পাট ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। উজান ও ভাটি অঞ্চলের সাথে নৌপথে যােগাযােগ রাখার ব্যবস্থা হিসেবে এলাকাটি ব্যবসায়ীদের নজর কেড়েছিল।

ফলে পণ্য বহনকারী নৌকায় মালামাল আমদানি-রপ্তানি বেড়ে যায় এবং হাজীগঞ্জে বিভিন্ন পণ্যের বড় বড় আড়ৎ গড়ে উঠে। হিন্দু জমিদার প্রতিপত্তির উত্তরকালে এই এলাকার প্রভাবশালী মুসলমানদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিলেন মকিমাবাদের আজগর আলী ব্যাপারী, ওহাব আলী বেপারী, মনীনাগের কাশেম আলী মজুমদার, ধেররার মরহুম আবদুল আজিজ চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া সেই সময়ে এ অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যক্তিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন জুনাব আলী মজুমদার (প্রাক্তন এম.এল.এ.),ধেররা নিবাসী মরহুম আব্দুল আজিজ চৌধুরী, খান সাহেব আমিন মিয়া, খান সাহেব জুনাব আলী মুন্সি (প্রাক্তন এম এল এ), আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মুন্সি, মো. ওয়াহাব আলী বেপারী সাহেব প্রমুখ। নানা দিক থেকে নানা রকম সমৃদ্ধি অর্জনের এক পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ এলাকায় থানা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

mosque-e

১৯৬৮ সালে থানা স্থাপনের সময় মনাই হাজী (রহ.)’র প্রতিষ্ঠিত হাজী বাজারের স্মরণে গড়ে উঠা হাজীগঞ্জকে কেন্দ্র করে থানার নামকরণ করা হয় হাজীগঞ্জ থানা। কচুয়া, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহকেও হাজীগঞ্জ থানা প্রশাসনের আওতাভূক্ত করা হয়। ফলে হাজীগঞ্জ বাজার এলাকাটি লােক সমাগম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও জমজমাট হয়ে উঠতে শুরু করে। হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) জীবনের প্রথম দিকে পবিত্র হজ্জ পালন করেন। পবিত্র হজ্ব থেকে দেশে ফিরে এসে তিনি ভরাটকৃত পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ।

উঁচু ভিটিতে পাকা মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। প্রথম পর্যায়ে হাজী মকিমউদ্দিন (রহ.)’র আস্তানার অংশসহ দক্ষিণ দিকে । ১০০২০ হাত আয়তনের পাকা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সে সময় এ এলাকায় ব্রিক ফিল্ড ছিল না। তাই আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ইটের জন্য ইটভাটা তৈরি করেছিলেন। ঢাকার সুনিপুণ ওস্তাগার আব্দুর রহমান রাজ পাকা মসজিদ নির্মাণকাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

আহমাদ আলী পাটওয়ারীর পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩৩৭ সালের। ১৭ আশ্বিন মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) এর আহ্বানে মাওলানা আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহ.) মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পুরাতন ঢাকার মুহসিনিয়া মাদ্রাসার অধ্য শামছুল ওলামা মাওলানা আবু নছর মো. ওয়াহীদ (রহ.) এ উপলক্ষে হাজীগঞ্জে আসেন। মসজিদের ছাদ তৈরির জন্য আহমাদ আলী পাটওয়ারী নিজে কলিকাতা গিয়ে ।

জাহাজ ভাড়া করে লােহার বীম ও ফোরের জন্য মর্মর পাথর এনেছিলেন। প্রথম পর্যায়ে ১০০২০-২০০০ বর্গহাত আয়তনের বিশাল মসজিদের । মেঝেতে মর্মরপাথর বসানাে হলো। সাত বছর সময়ের মধ্যে মূল মসজিদ দালান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছিল। ১৩৪৪ সালের ১০ অগ্রহায়ন রােজ শুক্রবার নবনির্মিত মসজিদ উদ্বোধনের আয়্জোনে করা হয়েছিল।

MASJID

বড় মসজিদের উদ্বোধনী দিনে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ,কে, ফজলুল হক সাহেব সহ তার মন্ত্রিসভার আরও তিনজন মন্ত্রী যথাক্রমে নওয়াব মোশারফ হােসেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও নওয়াবজাদা খাজা নসরুল্লাহ।

উদ্বোধনী দিনের জুময়ার নামাজে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাও. আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহ.), যিনি সাত বছর পূর্বে এ মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মূল মসজিদের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে কাঁচের টুকরাে ভেঙ্গে মেহরাবে ফুল, ঝাড়। ইত্যাদি মনােরম নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়। এভাবে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মেহরাবে এক অতুলনীয় শিল্পনৈপুণ্য ফুটে ওঠে। তৈরি হয়ে যায় হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের দৃষ্টিনন্দন মেহরাব।

মসজিদের অভ্যন্তরীণ দেয়ালের উপরিভাগে খোঁদাই করে চক্রাকারে ‘সুরা ইয়াসিন’ ও ‘সুরা জুময়া সম্পূর্ণ লেখা হলাে। মাওলানা আবুল ফারাহ জৈনপুরী (রহ.) নিজ হাতে মসজিদের দেয়ালে এ দুটি সুরা চুন সুরকীর মসল্লা কেটে কেটে লিখেছিলেন। তাঁর দৈহিক বিশালতা সত্ত্বেও তিনি কাঠের সিঁড়িতে বসে এবং মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে মনােরম আরবী হাতের লেখা দ্বারা সুরা দুটি লিখেছিলেন।

দেয়ালের মধ্যভাগেও মাঝে মাঝে তােগরাখতে মনােরম নকশায় কালেমায়ে তায়্যেবাহ এঁকে দিয়েছিলেন। তাঁর এ অমর কীর্তি দর্শনার্থী মুসল্লিগণকে দীর্ঘকাল উজ্জীবিত করেছে। মসজিদ সংস্কার কালে তা রক্ষা করা সম্ভব হয় নি। কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহপাক জৈনপুরী (রহ.) কে সর্বোত্তম পুরস্কার দান করুন।

মসজিদের বারান্দা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা শুনে মতলব থানার গজারিয়া নিবাসী সুবক্তা মওলানা ইমাম উদ্দিন নূরী (রহ.) এক জোশিলা ওয়াজ করলেন। তার ওয়াজে প্রভাবাহ্নিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান শ্রোতাগণ সভাস্থলে নগদ ১৭০/- (একশত সত্ত্বর টাকা) দান করেন। সে কালে এ টাকা বড় মসজিদের নির্মাণ কাজে যথেষ্ট উৎসাহ যুগিয়েছিল।

হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) বাগদাদ সফরের সময় খুঁটির উপর নির্মিত হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)’র মসজিদ দেখেছিলেন। ভরাট পুকুর ভিটির উপর বারান্দা নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করার সময় তিনি সে নমুনা অনুসারে দালান নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। বাগদাদে খুঁটির উপর নির্মিত মসজিদের নির্মাণ কৌশল তিনি ভালােভাবে লক্ষ্য করেছিলেন।

অভিজ্ঞ ওস্তাগার আব্দুর রহমানকে তিনি তা ভালােভাবে বুঝিয়ে দিলেন এবং সে মােতাবেক কাজ করার নির্দেশ দিলেন। মোতাওয়াল্লী হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের এ বিশাল ইমারত নির্মাণ কাজে কোনাে প্রকৌশলীর পরামর্শ গ্রহণ করেননি। পুরোটাই তাঁর নিজস্ব চিন্তার ফসল আর নিপুণ শিল্পী আব্দুর রহমান ওস্তাগারের সহযোগিতা।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) মনাই হাজী (রহ.)’র দৌহিত্র। তাই মাতুলসূত্রে তিনি মনাই হাজী (রহ.)’র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ছিলেন। আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) বড় মসজিদ প্রতিষ্ঠার এক পর্যায়ে সম্পত্তির মালিক হিসেবে তিনি তার মালিকানাধীন সম্পত্তি রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ওয়াফ করে দেন।

কবরস্থানের সম্পত্তি ওয়াক্ফ করলে শরিয়তের বিধান মোতাবেক উক্ত স্থান নগদ মূল্যে ক্রয় করে দাফন করতে হয়। তাই তিনি জনসাধারণের অযথা হয়রানি এড়ানোর জন্য মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্ব এবং তার পার্শ্ববর্তী বাগানসহ কবরস্থানের।

জায়গা ওয়াফের বাইরে নিজ মালিকানায় রাখেন। যা পরবর্তীতে ওয়াকফ প্রশাসনে তিনি তালিকা ভূক্ত করে সত্ত্বত্যাগী হন। মূল মসজিদের সম্মুখভাগে ভরাটকৃত পুকুরের উপর মসজিদের বর্ধিত অংশের নির্মাণ কাজে ১০০৬২ হাত পরিধি নির্মাণে দু বাহু ব্যতীত ৭০টি পিলারের উপরে নির্মিত হয়েছিলাে। আব্দুর রহমান ওস্তাগার মসজিদের পূর্ণ আসনের সম্মুখভাগের পিলারগুলির সামনের দিকে লতাপাতার অতি চমৎকার কারুকার্য তৈরি করলেন।

ভাঙ্গা বাসন ও কাচ দ্বারা তিনি এ শৈল্পিক নিপুণতার স্বাক্ষর রেখে যান। এ কাজের জন্য কলিকাতা থেকে বিভিন্ন রঙের ফুলের ঝুরি, টব ও রঙিন কাচ ক্রয় করে আনা হয়েছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের চীনা বাসনপত্রের ব্যবসায়ীগণ তাদের ভাঙা চীনা বাসন এবং রং বেরঙের কাচের জগ বস্তাবন্দি করে রেল ওয়াগনে করে বড় মসজিদের নকশার কাজের জন্য নিজ খরচে হাজীগঞ্জ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ নির্মাণের পর তৃতীয় অংশের বারান্দার টিনের ঘরখানা খুলে ফেলা হয় এবং সেখানে ১০০৩২ হাত আয়তনের দ্বিতীয় বারান্দা তথা মসজিদের তৃতীয় অংশ নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হল। এভাবে তিন ধাপে নির্মিত তিনটি অংশ মিলে ১০১৪৪ হাত বিশিষ্ট বিশাল এক মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হল।

মসজিদের পূর্ব পাশে নিম্নভূমির উত্তর মাথা ভরাট করে ১৯৩১ সনে সেখানে হাজীগঞ্জ দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ১৯৫৩ সালে মসজিদের পূর্ব সীমানায় প্রধান দরজায় সু-উচ্চ মিনারা তৈরির কাজ শুরু করেন এবং তার পার্শ্বে গম্বুজ প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন। পরিকল্পনা মােতাবেক মিনারা তৈরির কাজে আর্থিক সংকট পরিলক্ষিত হলে তিনি কাজিরগাঁও মৌজাস্ত তার নিজ মালিকানাধীন ছয় কানি সম্পত্তি বিক্রয় করে সেই অর্থ মিনারা তৈরির কাজে লাগান।

মিনারার দু’পাশে দুটি সিঁড়িসহ উঁচু মিনারা তৈরি করা হয় এবং মিনারার উপরে ফানুসের মত একটি টপ প্রস্তুত করা হয়। ১৯৫৭ সালের শুরুর দিকে। মিনারা তৈরির কাজ শেষ হয়।মিনারার নীচে মসজিদের পূর্বদিকের শাহী গেইটের প্রধান দরজায় চিনা।

বাসনের কারুকার্য খচিত অতি মনােরম নকশা সাজানাে হয়। রাতের আলােতে নকশায় জ্যোৎস্না উত্তীর্ণ হয় এবং সেখানে নামাজ ও মসজিদ । বিষয়ক বিশেষ হাদিস সংযােজিত হয়েছে।

আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) তাঁর জীবদ্দশায় মাত্র ৩২ বছর সময়ের মধ্যে প্রায় ২৬০০ বর্গফুট আয়তনের বিশাল মসজিদের মেহরাব থেকে মিনারা পর্যন্ত নির্মাণ সু-সম্পন্ন করাসহ সম্পদ-সম্পত্তি এবং মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠা করেন। আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) মসজিদের তৃতীয় অংশের কাজের প্রারম্ভে হজ্ব পালন করে মোট তিনবার হজ্বব্রত পালন করেন। তিনবারের মধ্যে দু’বারই তিনি আকবরী হজ্ব লাভ করেন-আলহামদুলিল্লাহ।

হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) মসজিদের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করার মানসে ইট-বালু সংগ্রহ করে অল্প দিনের মধ্যে হুজরা খানার পেছনে ইংরেজি ইউ অক্ষরের আকারে একটি মার্কেট তৈরি করে ভাড়াটিয়া বসান। তিনি মসজিদের পাশাপাশি মসজিদ পরিচালনার জন্য অফিসগৃহ নির্মাণ করেন। এছাড়া দূরের জিয়ারতকারী বা মেহমানদের সান্ধ্যকালীন বিশ্রাম বা রাত্রি যাপনের জন্য একটি মুসাফিরখানার ব্যবস্থা করেন।

এজন্য তিনি আমদানিকৃত শাল কাঠের বিশাল খুঁটি ও তক্তা দিয়ে মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে দরজার পূর্ব পার্শ্বে হুজরা কাম মুসাফিরখানা বা মেহমানখানা পুননির্মাণ করেন। জুময়ার সানি আজানের জন্য মসজিদের ভিতরে সেগুন কাঠ দ্বারা অতি চমৎকার নকশা সম্বলিত আকর্ষণীয় মঞ্চ তৈরি করেন।হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) মুসলমান বালক-বালিকাদের জন্য একতলা একখানা মাদ্রাসাতুল কোরআন প্রতিষ্ঠা করে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ওয়াকফ করে দেন।

মােতাওয়াল্লী হিসেবে তার যে সম্মানী ভাতা ধার্য ছিল সেই তহবিলের জমানাে দশ হাজার টাকা ইহজগৎ ত্যাগের কিছুদিন পূর্বে তিনি একাজে ব্যয় করেন। ১৩৭৫ সালের ১৭ বৈশাখ সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ইহলােক ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি-রাজিউন)।

model

২ জুলাই ২০২৫
এজি

এছাড়াও দেখুন

poura

হাজীগঞ্জ পৌরসভা জেলার অন্যতম প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা

হাজীগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। ইহা প্রতিষ্ঠালাভ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *