দানবীর, প্রতিষ্ঠাতা ও ওয়াকীফ আলহাজ্ব আহমদ আলী পাটওয়ারী রহ. ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃক পরিচালিত হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ। রুটিন ছাড়াও প্রতি রমজান উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় ২০২৬ সালেও তদ্রুপ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশে রমজান মাস ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত সেহরি গ্রহণ থেকে শুরু হয় ।
মোতওয়াল্লী আলহাজ¦ প্রিন্স শাকিল আহমেদ এক সাক্ষাতকারে বলেন,’’ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে আসন্ন রমজান উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি হিসাবে জুমাতুল বিদাসহ রমজানে জুমার দিনে নামাজ, ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান নফল এবাদতের জন্যে সাধ্যের মধ্যে সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সবের মধ্যে রযেছে- মুসল্লিদের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করতে মসজিদের ভেতর ও বাহিরের প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় কাপড়ের দস্তর বিছানোর ব্যবস্থা রাখা,সামিয়ানা টানানো,পর্যাপ্ত ওযুরস্থান ব্যবস্থাকরণ,প্রতি জুমার পর মসজিদ সংলগ্ন সকল কবরবাসীর জন্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা, রাতভর এবাদতের জন্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জোরদার রাখা,নামাজ ও আযানের সাইন্ডসিস্টেম বজায় রাখা,ওয়াশব্লক সম্পুর্ণ পরিস্কার-পরিছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি প্রয়োজনীয় নিদের্শনা,রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,জুমার দিনে মহিলাদের নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় পর্দাসহ ওযুর ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা, সাহরি ও ইফতারের সময় যথাযথ নিয়মে সাইরেন বাজানো ও তাৎক্ষণিক উপস্থিত রোজাদারদের জন্যে সাধ্যমত ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পবিত্র রমজানের মাসের ৫ ওয়াক্ত নামাজ তারাবীহ আদায়,পবিত্র কোরআন তেলায়েত,জিকির-আজকার, তসবীপাট ও অন্যান্য নফল এতাদত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় ধর্ম-প্রাণ মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যে অংশগ্রহণের জন্য এবারো জেলার সর্ববৃহৎ,প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের পক্ষ থেকে এ সব বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’’
আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে মোতওয়াল্লী আলহাজ প্রিন্স শাকিল আহমেদ আরোও বলেন,‘‘নতুন দু’ জন হাফেজ নিয়োগ প্রদান, রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাপে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় গড়ে ৩শ- ৪শ’ খোদাভক্ত মুসুল্লীদের রাতভর ইবাদতের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখাসহ রমজান মাসে যাতে মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও বেশি বেশি ইবাদতের সুযোগদানের জন্যে ২৪ ঘন্টাই মসজিদ খোলা রাখা হয়। দক্ষিণ পাশের ওযুর উন্নত ব্যবস্থার জন্যে সংস্কারমূলক কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং একটিতে নতুন সেড দেয়া হয়েছে । এবার মসজিদের দৃষ্টিনন্দন বাড়াতে মিনারসহ মসজিদের সংস্কার ও পুরানো অফিস ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে ।’’
জুমাতুল বিদাসহ রমজানের সকল জুমা দিনে নামাজ আদায়ে সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ’‘হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে সকল জুমায় ও জুমআতুল বিদা’র দিনে সকাল ১০ টা থেকেই জেলার বিভিন্ন্ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা,অধ্যাপক ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক, নিজদের কেনাকাটার জন্যে হাজীগঞ্জ বাজারে আসা পর্দনশীল মহিলা ও ছাত্রসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ মসজিদে সমবেত হন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাগ্রহণে আন্তরিক রয়েছেন। ওয়াকফ এ্যাস্টেট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সব সময়েই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়াও পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে কর্তৃপক্ষ। ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানের সব দিকের প্রতি নজর রেখে উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে। ’’
’তিনি প্রসঙ্গক্রমে আরোও বলেন, ‘‘মুসলিম উম্মার জন্যে এ দিনটি জুমাতুল বিদা ও জুমার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছরের জুমা ও জুমাতুল বিদা পালনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে সংশিষ্ট সবার দায়িত্ব বন্টন করা থাকবে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধিতে নতুন নতুন ব্যবস্থা ও প্রাসঙ্গিক সকল সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’’
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভা,উপজেলা প্রশাসন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, হাজীগঞ্জ থানা ও ট্রাফিক পুলিশ, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজন সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন। নামাজ পড়াবেন মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি আবদুর রউফসহ পর্যায়েক্রমে আরো ২ জন।’
হাজীগঞ্জ আহমেদিয়া কাওমী মাদ্রাসার মোহতামীম ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের খতিবের দায়িত্বে নিয়োজিত হাফেজ মাও.মুফতি আবদুর রউফ বলেন,‘‘ রমজানের খতম তারাবিহ নামাজ পড়াতে এবার দু’জন নতুন হাফেজ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমিসহ ৩ জন হাফেজ পর্যায়ক্রমে নামাজ পড়াবেন। ২৭ রমজান কোরান খতম সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং দেশবাসীসহ সকল মুমিন মুসলমানদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে ও দেশ, জাতি ও দেশের সার্বিক কল্যাণে বিশেষভাবে দোয়া পরিচালনা করা হয়। ’’
’হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় জামে মসজিদের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন রাজু বলেন,‘প্রতি জুমা ও জুমাতুল বিধায় মুসল্লিগণের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে এস্টেট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট,রজনীগন্ধ্যা মার্কেট,কাওমী মাদরাসা ও মার্কেট, আলীয়া মাদরাসা ও প্লাজা মার্কেটে নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ’’
প্রসঙ্গত -আসন্ন রমজান উপলক্ষে ইতোমধ্যেই মসজিদের মিনারের দৃষ্ঠিনন্দন বাড়াতে সংস্কারমূলক কাজের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জুমাতুল বিদায় রমজানের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ও অজু-নামাজের ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়- যেখানে লাখো মুসল্লি সমবেত হন বিধায় সকল সেবা নিশ্চিতে গুরুত্ব দেয়া হয়।
নামাজের সময়সূচিসহ ইফতার ও সেহরির সময়সূচি অনুযায়ী তারাবিহ ও প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ঘোষণা ও নিশ্চিত করা হয়। রমজান পূর্বেই মসজিদ কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সাহরি ও ইফতারের ডিজিটাল ও প্রিন্টেড সময়সূচি প্রকাশ করা হযে থাকে।
ইফতার আয়োজনে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোজাদারের জন্য মসজিদের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্যে থাকে এ ব্যবস্থা।
আবদুল গনি
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এ জি
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ অনলাইন পত্রিকা