Tuesday , 6 October 2026
Mosq-620x330

‘‘হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়া ’’বিষয়ে সচেতন থাকার আহবান

‘‘ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ নিয়ে-জনমনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্যে সংবাদ সম্মেলন,ফেইসবুক,অনএয়ার,ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়া ব্যবহার করে মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত এস্টেটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়া’’ বিষয়ে সচেতন থাকার আহবান ।

সকলের অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে-একটি ‘প্রতিপক্ষ একটি চক্র’ কর্তৃক প্রশাসনিক দপ্তরে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে চক্রান্ত করে এবং তাদের সহযোগীগণের মদদে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কারো সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো মামলা নাই। হাজী আহমাদ আলী পাটওয়ারী র.ওয়াকফ্ এস্টেটের সম্পদ-সম্পত্তি, অর্থ-স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আজ জীবনের হুমকি এবং নিত্যদিনে হয়রানির সম্মুখীন।

প্রতিপক্ষ এস্টেটের কাছে দেনাদার (ঠিকাদার) সহ ৪ জনের সাথে এস্টেটের মামলা চলমান রয়েছে। অনেক আগের সমস্যা যা সমাধানযোগ্য হাজীগঞ্জ ,হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স এবং কর্মকর্তাগণের সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আদালতের রায়ে যদি আইনানুগভাবে টাকা অথবা সম্পত্তি তারা পায়- তা হলে ওয়াকফ্ এস্টেট বিধি মোতাবেক তা’ প্রদান করবে।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, মো.কবির হোসেন লিটন- তিনি এস্টেটে ২০২২ সালের দিকে ঠিকাদারী কাজ করেছেন। এস্টেটের কাজে চক্রান্তমূলকভাবে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছিলো পি.বি.আই এর তদন্ত প্রতিবেদন মোতাবেক ৪০৬/৪২০ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায়। চাঁদপুর আদালতে ১৪২/২৬ এবং ৩/২৫ ধারায় এ মামলাটি চলমান রয়েছে। আদালত কর্তৃক ওদের বিরুদ্ধে সমনও জারি হয়েছে। অথচ সংবাদ সম্মেলন করে ও ফেইসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদার- তিনি নির্মাণাধীন মার্কেটের ৩টি ঘর বাবদ ৩৮ লাখ টাকা জমা দেয়। কক্ষের ভাড়াটিয়া হওয়ার পূর্বে টাকা পরিশোধ না করে বে-আইনীভাবে দোকান কক্ষ হস্তান্তর করে। যার কাছে সে হস্তান্তর করে ঐ ব্যক্তি দলিল জমা দিয়ে তার নিজের জমাকৃত ৩০ লাখ টাকা এস্টেটের হিসাব থেকে তুলে নেয়। এক পর্যায়ে মাসুদ তার জমাকৃত ৩৮ লাখ টাকার পরিবর্তে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এস্টেটের কাছ থেকে দাবি করে। জমার চেয়ে বেশি টাকা যদি দিতেই হয়- তা হলে ওয়াকফ্ এস্টেটকেই দিতে হবে। সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ।

মোহাম্মদ আলাল হোসেন-স্মরণাতীত কাল থেকে সর্ব সাধারণের জন্য ব্যবহৃত কবরস্থানের জায়গার উপর তিনি মালিকানা দাবি করেন । আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মো.শাহ আলম- তিনি ওয়াকফ্ এস্টেটের ‘হিসাব রক্ষক’। চুক্তি মোতাবেক হিসাব করে টাকা না দিয়ে কাজের লোকদের সাথে যোগসাজস করে সে ঠিকাদার চক্রের সাথে আতাত করে অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি আতাত করে এস্টেটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এমনকি ব্যাংক স্টেটমেন্ট মোতাবেক ১০ বছর আগের ব্যক্তিগত চেকে বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা লিখে ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে ব্যর্থ হয়ে ঠিকাদার লিটনকে দিয়ে এন.আই অ্যাক্টে মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন দপ্তরে কাল্পনিক অভিযোগ দায়ের করে। তিনি এখতিয়ার বহির্ভূত হয়রানীমূলক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

মো. মিজান ব্যাপারী- তিনি এস্টেটের ঠিকাদার। ২০২২ সালের কাজের হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মৌখিকভাবে তাকে বার বার বলা হয়েছে। হিসাব বুঝিয়ে না দেয়ার কারণে কাজের হিসাব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এস্টেট থেকে ২৬ নভেম্বর ২০২৪ এ নোটিশ প্রদান করে। অত:পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়।

ক) ওয়াকীফ্ মোতওয়াল্লী আহমাদ আলী পাটওয়ারী রহ.১.১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে প্রথমে শুরু করা ওয়াকফ্ এস্টেটটি আল্লাহর মেহেরবাণীতে ওয়াক্বীফ তাঁর এবং পরবর্তীতে আমরা পর্যায়ক্রমে দায়িত্বে থাকা ৩ জন মোতওয়াল্লী আরোও ৯.৭০ একর সম্পত্তিতে উন্নীত করেছি। হায়নাদের ছোবলে থেকে ওয়াকফ্ সম্পত্তি ধরে রেখে পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন কতোটা কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ জানে না। যদি সহজ হতো তা’ হলে অন্য ওয়াক্বফ এস্টেটও করতে পারতো। সারাদেশে দ্বিতীয়টি নেই।

খ) মোতওয়াল্লী মো.আলমগীর কবির পাটওয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ এর প্রথম অংশের ছাদ, ১১ দরজা বিশিষ্ট বিশাল ওয়াল এবং ৭৭টি পিলার অপসারণ করে ৫ তলা ফাউন্ডেশন এর উচ্চতা দিয়ে মসজিদ ভবনসহ উঁচু আলো বাতাস এর ব্যবস্থা সম্বলিত, খোলা-মেলা দো’তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়,

খ) অত্র অঞ্চলের প্রথম দ্বীনি মাদ্রাসা পরবর্তীতে সিনিয়র মাদ্রাসায় মোতওয়াল্লী পরিবারবর্গ ইতোপূর্বে আরো সম্পত্তি দানপূর্বক আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসায় উন্নীত করেছি,

গ) জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা,ঘ) হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.) হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও ঙ) মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কর্মসংস্থানমূখী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এগুলোতে ব্যবসা করে কতো উদ্যোক্তা জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে সে সকল প্রতিষ্ঠান হচ্ছে : ক) হাজীগঞ্জ প্লাজা মার্কেট, খ) হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, গ) কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট, ঘ)রজনীগন্ধ্যা মার্কেট, ঙ) রজনীগন্ধা এক্সটেনশন (নির্মাণাধীন), চ) হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টার (নির্মাণাধীন)।

ওয়াক্বফ এস্টেটের নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজে কেরানী বা হিসাব রক্ষকের সাথে ঠিকাদার এবং ইঞ্জিনিয়ার সমাঝোতা করে বিশাল অংকের টাকা সরিয়ে ফেলে। যে কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে মামলায় বিচারাধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত- যদি বলি-আজকের ‘হাজীগঞ্জ’ এর নাম মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। এ গৌরব হাজীগঞ্জবাসীর। গৌরবের এ শিখরে আমরা পৌঁছাতে গিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের চক্রান্তের স্বীকার হচ্ছি বার বার। ছদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মোতওয়াল্লীগণের ত্যাগের অংশ হিসেবে হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের উন্নয়ন কাজে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক থেকে দু’পর্যায়ে কর্মসংস্থানের গতিধারায় নির্মাণাধীন ভবনের জন্য মাত্র ৮ কোটি টাকা লোন গ্রহণ করি।

কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত অর্থনৈতিক মন্দার কারণে-মকিমউদ্দিনের ৩য় তলার উপরের অধিকাংশ ভাড়াটিয়ার জমাকৃত টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বর্তমানের এ সংকট। এস্টেটের টাকা না থাকায় কাজ শেষ করতে গিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন হসপিটালের টাকাও মসজিদের ভবনের কাজে ব্যয় করতে হয়েছে। উপরন্তু ঠিকাদার চক্রটি হসপিটালের টাকাও আত্মসাৎ করে যার কারণে মামলা চলমান।

সেরা মানের হসপিটাল বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। হসপিটালে লাভ না হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জমি বিক্রয় করে বিনিয়োগকারীদেরকে ১ টাকাও লস না দিয়ে মূল টাকাই পর্যায়ক্রমে ফেরত দিচ্ছি। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে দুষ্ট চক্রের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক- যার প্রেক্ষিত অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

বিধি মোতাবেক দোকান বরাদ্দের টাকা ওয়াকফ এস্টেটের ভবন নির্মাণের কাজে লাগিয়েছি এবং বরাদ্দ হস্তান্তর করেছি। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বরাদ্দ গ্রহীতাগণ ব্যবসা করতে না পারায় বরাদ্দের টাকা অনেকেই ফেরত নিচ্ছেন।সার্বিক প্রেক্ষিতে টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে ওয়াকফ এস্টেট সংকটে পড়েছে।

একদিকে বরাদ্দ গ্রহীতাদের পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে যেই ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে,ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করে ব্যাংক ঋণ ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে আমাদের বসত বাড়িটিও ব্যাংকে মর্টগেজকৃত। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি কর্তৃক ওয়াকফ এস্টেটের স্বার্থে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করার নজির বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তারপরেও চক্রান্তকারীদের চক্রান্তর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার লক্ষ্যে মোতাওয়াল্লী এবং মোতাওয়াল্লী পরিবারকে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে হয়রানি এবং ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ এস্টেটের সুনাম নষ্টকারী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক । কেননা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সেবাকার্যক্রমে আত্মত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ।

অতএব,সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত ওয়াকফ্ এস্টেট এর মোতওয়াল্লী এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে সকলের সহযোগিতা কাম্য।

প্রতিবেদক : প্রিন্স শাকিল আহমেদ,মোতওয়াল্লী, আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ্ এস্টেট,হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। ৪ অক্টোবর ২০২৬।

সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ
৪ অক্টোবর ২০২৬
এ জি

এছাড়াও দেখুন

poura

হাজীগঞ্জ পৌরসভা জেলার অন্যতম প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা

হাজীগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। ইহা প্রতিষ্ঠালাভ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *