Friday , 2 October 2026
tika=====

হাজীগঞ্জ উপজেলা-পৌরসভাসহ জেলায় বাদপড়া শিশুদের টিকা প্রদান অব্যাহত

হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভাসহ জেলার ৮ উপজেলা ও ২ পৌরসভায় ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া হাম-রুবেলার মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৭২ জন বাদ পড়া শিশু টিকা পেলো।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই বিভাগ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে,চাঁদপুর সদরে ১১১ জন,চাঁদপুর পৌরসভা ১০৩ জন,ফরিদগঞ্জে ৩৪৫জন, হাইমচরে ৬১ জন,হাজীগঞ্জে ৪৫০ জন,হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ৩৬ জন,কচুয়ায় ২৮২ জন,শাহরাস্তি ১২৮ জন,মতলব দক্ষিণ ২৩৭ জন, মতলব উত্তর ৩১৯ জন প্রথম রাউন্ডে বাদপড়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা হামরুবেলা টিকা পেয়েছে।

চাঁদপুরসহ সারা দেশে হাম-রুবেলার মূল ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে-যা আগামি ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে বলে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। কোনো শিশু যদি আগের ক্যাম্পেইনে ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে’র মধ্যে কোনো কারণে টিকা না পেয়ে থাকে, তবে এ বিশেষ ক্যাম্পেইনে তাকে টিকা দিতে পারবে।

কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলীতে জানা যায়-৬ মাস থেকে ৫৯ মাস যারা ৫ বছরের কম বয়সী বাদ পড়া শিশুরা এ টিকা পাবে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ বিশেষ কার্যক্রম চাঁদপুরসহ সারাদেশে চলমান থাকবে বলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ।

চাঁদপুরের স্ব-স্ব এলাকার নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,ই পি আই টিকাদান কেন্দ্র অথবা এলাকার নির্দিষ্ট অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুকে এ বিশেষ টিকা দেয়া যাবে।

দেশব্যাপি বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে এ বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্ব-স্ব শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত,চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,পূর্ববর্তী বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানে গাফিলতি এবং ভ্যাকসিন আমদানিতে বিলম্বের কারণে অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গিয়েছিল।

এ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে এবং বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষাকবচ দিতেই সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,ইউনিসেফ এবং গ্যাভি এর সহায়তায় এ বিশেষ ক্যাম্পেইনটি চালু করা হয়েছে। বাদ পড়া শিশু ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপি যে মূল হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হয়েছিল-সেখানে যে শিশুরা অসুস্থতা,ভিড়ের ভয় বা অন্য কোনো কারণে টিকা নেয়া থেকে বাদ পড়েছিল,প্রধানত তারাই এ টিকা নিতে পারবে।

এ দিকে সারাদেশ ব্যাপি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮শ ৩৩ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,‘২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় চার বছরের ঘাটতি তৈরি হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর সরকার সেই ঘাটতি পূরণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,‘হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির কারণে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতির উদ্ভাবিত কম খরচের বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতিতে অনেক শিশুকে অক্সিজেন দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ’

তিনি জানান,হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য বন্ধের দিন এবং সন্ধ্যার পরও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

dr

আবদুল গনি
অক্টোবর ১ , ২০২৬
এ জি

এছাড়াও দেখুন

ecnac

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *