হাজীগঞ্জ পৌরসভা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। ইহা প্রতিষ্ঠালাভ করে ১৪ মার্চ ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ। এটি ‘ক’ শ্রেণিভূক্ত বিধায় ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি চাঁদপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর এবং হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের জন্য পরিচিত নদেম জোড়া।
প্রশাসনিক কাঠামোতে পৌরসভাটিতে ১২টি ওয়ার্ড এবং ১৪টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ১৭.৭২ বর্গকি.মি.।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী -হাজীগঞ্জ পৌরসভার জনসংখ্যা ৭৯ হাজার ৪ শ ৮৩ জন। প্রতি বর্গ কি.মি জনসংখ্যার ঘনত্ব ৪,৪৮৭ জন। পৌরসভা এলাকার শিক্ষার হার ৮৪.%। শ্রেণির ক্রমবিকাশ পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে এর প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবার মান উন্নত হয়েছে । ফলে ১৯৮৫ সারের ১৪ মার্চ ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু।
১৯৯৮ সালে ১২ মে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ২০০৪ সালের ১২ জুলাই নাগরিক সুবিধা ও রাজস্ব আদায়ের ওপর ভিত্তি করে এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বীকৃতি পায়। প্রধান আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স অন্যতম। এটি পৌরসভারই নয় ; দেশের তথা চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও গৌরবের একটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সেরা প্রতিষ্ঠান। এ মসজিদের ঐতিহাসিক কারুকার্য এবং বিশাল মিনার দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে জেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র ও পাইকারি বাজার হিসেবে হাজীগঞ্জ বাজার অত্যন্ত পরিচিত। ধান, পাট এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় আড়ত রয়েছে এখানে। এ পৌরসভাটি প্রায় ১৮.৫০ বর্গ কি.মি.এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি ১২টি ওয়ার্ড এবং ১৪ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। নাগরিক সেবাসমূহ পৌরসভা কার্যালয় থেকে মূলত নিম্নলিখিত সেবাগুলো নাগরিকেরা সরাসরি পেয়ে থাকেন ।
নাগরিক সনদ ও লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন, ইজিবাইক বা অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,সড়ক বাতি রক্ষণাবেক্ষণ, এবং রাস্তাঘাট সংস্কার। সামাজিক কল্যাণে সরকারের দেয়া টিসিবির পণ্য বিতরণ,বেকার যুবকদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত পুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
ভৌগোলিক সীমানা ও অবস্থানহাজীগঞ্জ উপজেলার ঠিক মধ্যাংশে এ পৌরসভার অবস্থান। এর চারপাশের সীমানা হলো -উত্তরে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন, হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন ও হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন। দক্ষিণে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন ও বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন। পূর্বে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন। পশ্চিমে হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন।
নামকরণের ইতিহাসহাজীগঞ্জ অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক গোড়াপত্তন ঘটেছিল আজ থেকে বহু বছর আগে। বাংলা এগারোশত শতকের দিকে পবিত্র আরব ভূমি থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে হাজী মকিম উদ্দিন (র.) নামে একজন ওলীয়ে কামেল স্বপরিবারে এ অঞ্চলে আগমন করেন।
বর্তমান ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে তখন একটি পুকুর ছিল- যার উত্তর-পশ্চিম কোণে তিনি আস্তানা স্থাপন করেন। মূলত: তাঁর নামের “হাজী” অংশ এবং পরবর্তীতে মেঘনা নদীর এ পূর্ব প্রান্তের অতি প্রাচীন ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র তথা “গঞ্জ” মিলে এ ঐতিহাসিক জনপদের নাম হয় হাজীগঞ্জ।
যাগাযোগের ক্ষেত্রে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ পৌরসভার মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে-জেলার সেরা সেরা প্রতিষ্ঠান।

এ গুলোর মধ্যে- হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, আহমাদিয়া দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা , মাজিদিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা, হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজ, হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, হাজী থানা, হাজীগঞ্জ পাইলট বালক ও বালিকা হাই স্কুল, হাজীগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, আলীগঞ্জ পিটি আই, হাজীগঞ্জ বাজার, হাজীগঞ্জ ফায়ার, হাজীগঞ্জ ডাকঘর,পল্লীবিদ্যুৎ অফিস, উপজেলা হাসপাতাল , মাদ্দাখাঁ মসজিদ কমপ্লেক্স, হাজীগঞ্জ রেল স্টেশনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ অনেক নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ পৌরসভার ভেতরে রয়েছে।
কৃষি উৎপাদনে বোয়ালজুরি খাল ও ডাকাতিয়া নদী প্রবাহিত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করছে এর উন্নয়নে। অর্থনেতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় অসংখ্য ব্যাংক-বীমা রয়েছে এ হাজীগঞ্জ পৌরসভায়।
তথ্য সূত্র : ইন্টানেটভিত্তিক ওয়েবসাইড ; সৌজন্যে-সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ ।
লেখক : আবদুল গনি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ,সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ , চাঁদপুর।
সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ অনলাইন পত্রিকা