May 11, 2021, 2:23 pm


হাজীগঞ্জে মজনু হত্যা: গোয়েন্দা নজরদারীতে ব্যবসায়ী কাউসার’সহ কয়েকজন, আটক-৪

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মাইক্রো চালক মজনু হত্যা মামলায় বড় ভাই, ২ ভাবী ও ভাতিজা আটক করেছে পুলিশ। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, প্রথমে তদন্তের স্বার্থে মজনুর ছোট ভাই প্রবাসি মফিজের স্ত্রী মাহমুদাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মজনুর বড় ভাই মন্টু ও তার স্ত্রী শান্তা আক্তার, ভাতিজা কবিরের ছেলে সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানা সূত্রে জানাযায়, হাজীগঞ্জের ওকে এন্টারপ্রাইজের মালিক কাউসারসহ কয়েকজন গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারীতে রয়েছে। মজনু হত্যার পর যে, ৭০ লাখ টাকার কথা মজনুর পরিবারের মুখে উঠেছে এ হত্যার সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের একটি সংস্থা। মজনু কোথায় থেকে এতো টাকা পেলো তারও একটি ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদৌ মজনু এতো টাকার মালিক কিনা, নাকি টাকার বিষয়টি সাজিয়ে হত্যাকাণ্ডটি অন্য দিকে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তাও তদন্ত করছে পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

তাছাড়া হত্যার শিকার মজনু ছোট ভাই মফিজের স্ত্রী আটক মাহমুদার সাথে কোন রকম অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুঠোফোনে জানান, মজনু হত্যার রহস্য উদঘাটনের কাছা-কাছি চলে এসেছে পুলিশ। সব কিছুই সঠিক সময়ে মিডিয়াকে জানানো হবে।

 ১৫ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে নিজ ঘর থেকে পা বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মজনুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় আটক মাহমুদার হাত ও পা বাধা ছিল। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে নিহত মজনুর বড় ভাই সাজুদ্দিনের ছেলে জুয়েল। জুয়েল জানান, মাহমুদার হাত পা বাঁধা ছিল তবে তার এক হাত বাধাঁ থাকলে অন্য হাত দড়ি দিয়ে পেছানো ছিল। আমি পুলিশ থেকে অনুমতি নিয়েই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।

মজনু হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড টোরাগড় মিজি বাড়ীর বাসিন্দা। ওই বাড়ীর আনোয়ার হোসেন মিজির বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন মজনু ও তার পরিবার। মজনুরা আট ভাই। সে পরিবারে সপ্তম সন্তান। পরিবারের সবাই বিবাহিত হলেও মজনু ছিল অবিবাহিত।

মঙ্গলবার সকালে মজনুর ভাই বড় ভাই মন্টু প্রথমে রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। পরে চাঁদপুর পিবিআই ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

মন্টু জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মজনুদের ঘরের দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে দেখি মজনুর রক্তাক্ত মৃতদেহ লেপ দিয়ে ঢাকা। পরে মায়ের রুমে যাই এবং মাহমুদা ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ঘরে গিয়ে তার হাত পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়।

বাড়ীর মালিকের মেয়ে উম্মে সাবরিনা বলেন, সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মন্টু চিৎকার দিয়ে তার ভাই খুন হয়েছে বলে জানান। পরে তার বোন হিরা আক্তার বাড়ীর গেইটের তালা খুলে দেয়। প্রতিদিন মজনুর পরিবার বাড়ীর গেইটের তালা বন্ধ করতো।

সাবরিনা আরো জানান, গত সোমবার ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মজনুর ভাইয়ের স্ত্রী মাহমুদা তাদেরকে চা খাওয়ায়। ওই চা খেয়ে সে ও তার মা মাজেদা বেগম, ছেলে নাফিসহ ৫জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন চা তিতা লেগেছিল।

পুলিশের হাতে আটক মজনুর ছোট ভাই প্রবাসী মফিজুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বলেন, রাতে মজনু ভাত খায়নি। শুধু একটু দুধ খেয়েছে। তিতা বলে বেশি খায় নি। পরে মা রুপবান বেগম ও সে দুধ খেয়েছে। রাত ১১ টার দিকে মন্টু ও তার স্ত্রী শান্তা বেগম ওই বাসায় ছিল। মজনু আসার আগেই মন্টু ও শান্তা তাদের বাসায় চলে যায়।

মাহমুদা আরো জানান, মন্টুর পরিবারের সাথে মজনুর স্বর্ণালংকার ও টাকা লেনদেনের বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। তাই তারা এক ভাই আরেক ভাইয়ের ছায়া দেখতে পারেনা। এজন্যই মজনু আসার আগে মন্টুরা চলে যায়।হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন রনি জানান, মজনু হত্যার রহস্যটি খুবই রহস্য জনক। রাতে কে দরজা খুলে দিলো, কে খুন করলো, কেনইবা খুন করলো সব বিষয়ে বিষদ তদন্ত চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মফিজ ও হত্যার শিকার মজনুর স্ত্রীর সাথে কোন রকম অবৈধ সম্পর্ক আছে কিনা সব কিছুই ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে