September 17, 2021, 6:59 pm


হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি থেকে ১৭ নেতার পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল হাজীগঞ্জের হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের নব-গঠিত আহবায়ক কমিটিতে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ণ না করায় ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ১৭জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা যুবদল নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শনিবার বিকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তারা পদত্যাগের বিষয়টি জানান।

এর আগে উপজেলা যবুদল নেতৃবৃন্দের নিকট হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের নব-গঠিত আহবায়ক কমিটির ৫ জন যুগ্ম আহবায়কসহ ১৭ জন সদস্য পদত্যাগ পত্র জমা দেন বলে সংবাদকর্মীদের জানান, আহবায়ক কমিটির সিনিযর যুগ্ম আহবায়ক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ খন্দকার। এ দিন বিকালে তিনি ওই ১৭জনের পক্ষে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখিত পদত্যাগ পত্র পাঠ করেন।

তারা হলেন, ইউনিয়ন যুবদলের নব-গঠিত আহবায়ক কমিটির সিনিয়ন যুগ্ম আহবায়ক মো. মাসুদ খন্দকার, যুগ্ম আহবায়ক মো. শাহাদাত মজুমদার, মো. জিসান সর্দার, মো. কবির খান ও মো. মাসুদ মিয়াজী। কমিটির সদস্য মো. মাসুদ খান, মো. রুবেল মোল্লা, মো. মহিউদ্দিন রিপন মজুমদার, মো. জয়নাল আবেদীন কাজী, মো. আরিফুল ইসলাম সুজন. মো. মনির হোসেন, মো. এমরান হোসেন. মো. মাসুদুর রহমান, মো. ওমর, মো. জুয়েল পন্ডিত, মো. কাউছার আলম, মো.আলা-আমিন প্রধানীয়া ও ডা. ইকবাল হোসেন বাদল।

পদত্যাগের বিষয়ে মাসুদ খন্দকার বলেন, গত ৯ জুলাই ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন যুবদলের ৩২ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদান দেওয়া হয়েছে। উক্ত কমিটিতে আমিসহ উল্লেখিত ৫জন যুগ্ম আহবায়ক ও ১২ জন সদস্য রয়েছি। উল্লেখিত কমিটি দেখে আমরা মর্মাহত এবং ব্যথিত।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে দল ও দেশ যখন অবরুদ্ধ এবং মামলা, হামলায় দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জর্জরিত, আওয়ামী লীগ ও পুলিশি নির্যাতনে সকল নেতাকর্মী যখন নির্যাতিত, নেত্রী যখন অবরুদ্ধ, তারেক রহমান যখন প্রবাসে সর্বোপরি দেশের মানুষ যখন কোভিড-১৯ আক্রান্ত, তখন কিভাবে সফল কমিটি ভেঙ্গে অযোগ্য লোক দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদের ভাইটাল পদবী দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা পূর্বে কোন কালেই আন্দোলন সংগ্রামে ছিলো না। গত জাতীয় নির্বাচনে (২০১৮) তারা এলাকায় আসেনি। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে এবং অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে। এ ছাড়াও যাকে আহবায়ক করা হয়েছে তিনি ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা একটি লোহার দোকানের কর্মচারী এবং যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

আরো যাদের যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে, রাজনীতির সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। যিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তাকে সদস্য করা হয় নাই। যিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তাকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। অথচ যিনি ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তাকে নেতা বানিয়ে, নেতাদের কর্মী বানোনো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাসুদ খন্দকার।

তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ইউনিয়নের অনেক নেতা রয়েছে, যারা মামলার আসামী। জেলে থাকার কারণে ব্যবসা হারিয়ে তারা আজ পথে বসেছে। মামলা-মোকাদ্দমা থাকার কারণ তারা না পারে ব্যবসা করতে, না পারে চাকরি করতে। অথচ কমিটিতে তাদের সদস্য পর্যন্ত করা হয়নি। তাই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং অযোগ্য লোক দিয়ে গঠিত কমিটি বাতিল ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ণ করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়ার আহবান জানান তিনি।

সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খন্দকার বলেন, দল থেকে নয়, আমরা উল্লেখিত ১৭জন ইউনিয়ন যুবদলের নব-গঠিত আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমরা হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জি. মমিনুল হকের নেতৃত্বে রাজনীতি করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো। দলীয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও ইঞ্জি. মমিনুল হকের দিক-নির্দেশনা মেনে চলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে