July 27, 2021, 6:23 am


ফাইল ছবি।

এক নয়নের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে চারটি পরিবার তচনছ

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জে নয়ন দাস (২৭) নামে এক যুবকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে চারটি পরিবার তচনছ হওয়ার পথে। এই পরিবারের মধ্যে নয়ন দাসের নিজের পরিবার, তার স্ত্রী সীতা রানী দাসের (২২) বাপের বাড়ীর পরিবার, তার মামার পরিবার এবং নয়ন দাসের সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযাগ থাকা বড় ভাইয়ের অজিত দাসের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা দাসের (২০) বাপের বাড়ির পরিবার।

ইতিমধ্যেই নয়ন দাসের বিরুদ্ধে তার পরকিয়া প্রেমিকা ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা দাস প্রেমের অভিনয় করে অপহরণ করে ধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

এই মামলায় বাদী প্রিয়াঙ্কা দেবর ও পরকিয়া প্রেমিক নয়ন দাস ছাড়া জ্যা নয়ন দাসের স্ত্রী সীতা রানী, তার ভাই লিটন দাস (২৪) এবং মামা আইনজীবি সহকারি পরেশ চন্দ্র দাসকে (৪৫) আসামী করেছে।

পুলিশ মামলা দায়ের পুর্বক অভিযুক্ত নয়স দাস, তার স্ত্রী সীতা রানী ও শ্যালক লিটন দাসকে আটক করে বৃহষ্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের খুরুমখালী গ্রামের সুনীল দাসের ছেলে নরসুন্দর নয়ন দাস প্রেম করে ৮ বছর পুর্বে একই বাড়ির দুলাল দাসের মেয়ে সীতা রানী দাসকে বিয়ে করে। অন্যদিকে নয়নের বড় ভাই মালেয়শিয়া প্রবাসী অজিত দাস ৩ বছর পুর্বে ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্ণি দূর্গাপুর গ্রামের সাধু দাসের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দাসের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর অজিত দাস প্রবাসে চলে যাওয়ার পর দেবর নয়নের সাথে প্রিয়াঙ্কার পরকিয়া শুরু হয়। সর্বশেষ দেবর নয়ন দাস গত মে মাসে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার রাখালিয়া এলাকার জনৈক আবুল মিয়ার ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এক সপ্তাহ পর প্রিয়াঙ্কা নিয়ে নয়ন বাড়ি ফেরার কথা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এতে নয়ন দাস ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিয়াঙ্কাকে রাখালিয়া রেখেই পালিয়ে যায়। নয়ন দাস প্রথমে ঢাকা ও পরে কক্সবাজারে অবস্থান করে ।

অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা দাস বাড়ি ফিরে এসে নয়ন দাসের সাথে পুনরায় মুঠো ফোনে কথা বলে কৌশলে মঙ্গলবার রাতে নয়ন দাসকে তার বাপের বাড়ি হর্নিদূগাপুর নিয়ে আসে। পরে সেখানে তাকে আটকে রেখে বুধবার বিকালে ফরিদগঞ্জ থানায় সোর্পদ করে।

পরে প্রিয়াঙ্কা দাস বাদী হয়ে বুধবার রাতে তাকে অপহরণ করে ধর্ষণ এবং স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযোগের আলোকে নয়ন দাসের স্ত্রী সীতা রানী ও তার শ্যালক লিটন দাসকে আটক করে। পরে বৃহষ্পতিবার দুপুরে আটককৃতদের চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে।

খুরুমখালী গ্রামের লোকজন জানান, মাদকসেবী নয়ন দাসের অপর্কমের কারণে চারটি পরিবার তচনছ হওয়ার পথে। কারণ হিসেবে তারা জানান, ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন দুই একজনকে জড়িত করার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নয়ন দাসও অপরাধীদের বিচার দাবী করছি।

এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে আটককৃতদের বৃহষ্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে