May 11, 2021, 2:22 pm


ফাইল ছবি।

যে কারণে টোরাগড় ও কংগ্রাইশ গ্রামের দু’দল কিশোরের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ:ঢ়

হাজীগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় ও কংগ্রাইশ এলাকায় রোববার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কেন কী কারণে এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সেসব তথ্য। ঘটনার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যে বিষয়ে তুলে আনার চেষ্টা করেছিলেন ঘটনাটি তদন্তে তার কিছুই পাওয়া যায়ানি। বরং বিষয়টি সম্পূর্ণই তার উল্টো।

মূলত: কয়েকমাস পূর্বে টোরাগড় থেকে কয়েক কিশোর কংগাইশ এলাকায় যায়। সেখানে কংগ্রাইশ এলাকার কয়েক যুবক তাদের সাথে হট্টগোল বাঁধে। ওইসময় টোরাগড়ের কিশোরদের একটি রেডমি মুঠফোন হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও দাবী উঠেছে। সেই ঘটনার সূত্র ধরে রোববার রাতে দুই দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের টোরাগড় এলাকায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আতংক সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছে। আহতরা হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়।

ঘটনার শুরুতে দুই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন টোরাগড়ের আল-আমিন, রাকিব, রাব্বি। অন্যদিকে কংগাইশ গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন রহমত, সামি, সেন্টু ও মহিন।

এ বিষয়ে টোরাগড় এলাকার কিশোর আল-আমিন বলেন, ‘কয়েকমাস আগে আমার একটি মোবাইল ছিনতাই করে কংগ্রাইশ এলাকার রহমত ও তার দল। সেই মোবাইল ফেরত দিবে বলে আমাকে ফোন করে নেয়। আমি আমার বন্ধু রাকিব ও রাব্বীসহ মোবাইল আনতে যাই। পূর্ব থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা রহমত ও তার দল তাদের এলাকায় গেলে মারধর শুরু করে।’

এদিকে রহমতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তার সাথে থাকা ডন মাসুদের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, টোরাগড়ের আল-আমিন ও তার সাথে বন্ধুরাসহ একটি মেয়ে নিয়ে কংগ্রাইশ এলাকায় ঘুরাফেরা করে। তা দেখে এলাকার কয়েকজন তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। তখন বাগ-বিতন্ডা হয়। তবে কেউ মোবাইল রাখেনি। ওই বিষয়টি নিয়ে রোববার রাতে পুনরায় আল-আমিন ও তার দল কংগ্রইশ এলাকায় এসে হট্টগোল করে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌর ২নং প্যানেল মেয়র ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আজাদ মজুমদার বলেন, রোববার রাতে প্রথমে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি। এলাকায় কয়েকটি ঘটনা নিয়ে শালিশী বৈঠক হয়েছে। কিন্তু মোবাইল সংক্রান্ত বিষয়টি জানা ছিল না। প্রসাশনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি উদঘাটন করে মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হউত।

তিনি ঘটনার রাতে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম যে যা বলেছে, সেই বিষয়ে আমরা ধারণা করেছিলাম। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় যানবাহন চলাচলও বন্ধ ছিল। তিনি আরো নিশ্চিত করে বলেন, সেই রাতে মসজিদে কোন হামলাও হয়নি।

অন্যদিকে টোরাগড়-কংগাইশে সংঘর্ষ নিয়ে বালু ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল হককে অভিযুক্ত করে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে মঞ্জুরুল হক একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ মোস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের কাছে মঞ্জুরুল হক তালুকদার, শাহ্পরান ও মাসুদ তারা হেফাজত নেতা ও সংঘর্ষের ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করে। তার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে এমন কোন কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত নয়। ঘটনার সময় তিনি তার বাড়ির সম্মুখে মসজিদের তারাবির নামাজ পড়া অবস্থায় ছিলেন। মারামারি ঘটনায় সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ মোস্তাফা কামাল বিগত দিনেও বিভিন্ন সময় মঞ্জুরুল হক তালুকদার মঞ্জু নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন তালিকা ও ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনায় কেউ বিভ্রত না হওয়ার আহবান জানিয়ে মঞ্জুরুল হক তালুকদার বলেন, আমি ব্যবসা করে আসছি। আমার এখানে কেউ কোন মারামারি ঘটনায় কখনও জড়ায়নি। এমন মিথ্যা ও স্বার্থান্বেষী মহল থেকে সবাই দূরে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে টোরাগড়-কংগাইশে সংঘর্ষের ঘটনার পর হেফাজতের একটি গ্রুপের ইন্ধন আবার এক নারীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে মারামারির সূত্রপাত হয়েছে বলে চাউর হয়। তদন্তে বিষয়টি উঠে আসে মোবাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ‍দু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একটি পক্ষ বিষয়টি হেফাজত বলে অন্য কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় মসজিদে যে হামলার কথা বলা হয়েছিল সে বিষয়টিও সঠিক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে