Monday , 17 June 2024
kuya==

১৬ জেলার তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রির নিচে

তীব্র শীতে কাবু সারা দেশে। মানুষ তো বটেই, গৃহপালিত প্রাণীগুলোরও জবুথবু অবস্থা। রাস্তায় থাকা কুকুরগুলোও আশ্রয়ের সন্ধানে বাসাবাড়ির ছাউনিতলায় খুঁজছে নিরাপদ আশ্রয়। তবে গায়ে হিমেল বাতাস এড়াতে না পারায় গভীর রাতে শোনা যাচ্ছে তাদের কুঁই কুঁই আর্তনাদ।

দেশে তাপমাত্রা গতকালের মতোই অপরিবর্তিত আছে। তবে কমেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সারা দেশে গতকাল ১৬ জেলার তাপমাত্রা নেমে গেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এমন তীব্র শীতেও স্কুলগামী শিশুদের রেহাই নেই। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে না নামলে স্কুল ছুটি দেবে না মাধ্যমিক ও উচ্চিশিক্ষা বিভাগ (মাউশি) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে গতকাল সরেজমিনে বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলোতে দেখা গেছে,উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিশুদের পরনে যথাযথ শীতের কাপড় থাকলেও বাকিদের পরনে যে কাপড় তা শীত নিবারণে যথেষ্ট নয়। মেহেরপুরে একটি কিন্ডারগার্টেনগামী শিশুদের দেখা গেছে তীব্র শীতের মধ্যেও মোজা ছাড়া সাধারণ চপ্পল পায়ে স্কুলে যেতে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ১, যা মঙ্গলবার ছিল ১৩ দশমিক ৮। এ ছাড়া ১১ ডিগ্রির নিচে থাকা অঞ্চলগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৯.৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯.৬, বরিশালে ৯.৭, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯.৮, গোপালগঞ্জে ১০.৪, ভোলা ও ফরিদপুরে ১০.৫, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ১০.৬, ফেনী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০.৭, যশোর ও মাদারীপুরে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আগামি ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়,গতরাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল,অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।

এদিকে, কনকনে শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নামায় মেহেরপুরে কমেছে তাপমাত্রা। বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল আবারও কমেছে মেহেরপুরের তাপমাত্রার পারদ। জনজীবনে বেড়েছে দুর্ভোগ। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবী মানুষ সীমাহীন কষ্টের মধ্যে সময় পার করছেন। গতকাল সকাল থেকে রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই জনশূন্য। আর কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও তীব্র শীত আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাফেরা। তবুও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শীত উপেক্ষা করে যেতে দেখা গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

অন‍্যের বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করে বেড়ানো রোকেয়া খাতুন বলেন,‘আমাকে খুব ভোরের দিকে ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন বাড়িতে কাজে যেতে হয়। অনেক বাড়ির সাহেবরা তখন ঘুম থেকে ওঠেন না। তবে আমাদের সেখানে গিয়ে কাজ করতে হয়। বাইরে বের হলে মনে হয় শরীর ঠাণ্ডায় জমে যাইছে।’

ব‍্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে বামন্দী কুড়ির মেলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তার ৮টায় স্কুল, সকালে ঠাণ্ডার মধ‍্যে আমার মেয়ে কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে গিয়েছে। এ আবহওয়ায় স্কুল ছুটি দেয়া দরকার।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের অবস্থা নাজেহাল। কনকনে শীতেও স্কুল খোলা থাকায় কাকডাকা ভোরে উঠতে হয় অভিভাবকদের। এরপর শিশুদের প্রস্তুত করে ঘন কুয়াশার মধ্যেই স্কুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত শিশুরা জ্বর,সর্দি,কাশি,নিউমোনিয়াসহ নানান শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের কথা বিবেচনায় স্কুল ছুটির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

পঞ্চগড় অনির্বাণ বিদ্যানিকেতনের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক খালিদ বলেন, কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশায় আমাদের অবস্থাও খারাপ। কিন্তু স্কুল খোলা থাকায় প্রতিদিন আমার বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। এতে শিশুদের অনেক কষ্ট হয়। এটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

এ দিন সকালে জেলার ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ৬২ রোগী। যাদের বেশিরভাগই ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে নিয়মিত ভর্তি থাকছে তিন থেকে পাঁচগুণ রোগী। ওয়ার্ডে স্থান জায়গার অভাবে বারান্দায় গাদাগাদি করে শিশু রোগীদের নিয়ে থাকছেন অভিভাবকরা।

১৮ জানুয়ারি ২০২৪
এজি

এছাড়াও দেখুন

গণভবন -----

কোরবানির পশু বেচাকেনা এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা

ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকসহ কোরবানির পশু বেচাকেনা এবং ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *