Tuesday , 25 June 2024
ডি এন--

বঙ্গবন্ধুই কবি নজরুলকে জাতীয় কবি’র মর্যাদা দেন : অধ্যাপক মোশারফ হোসেন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ২৫ মে ১২৫তম জন্মজয়ন্তীপালন আলোচনা সভায় নজরুল গবেষণা পরিষদের সভাপতি ও মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো.মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বলেন,‘ বঙ্গবন্ধুই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন। তাঁর কবিতাকে আমাদের রণসঙ্গীতের মর্যাদা দেন। তাঁর চিকিৎসার জন্যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেন।বাংলাদেশে থাকার জন্যে তাঁেক রাষ্ট্রীয় বাড়ি উপহার দেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দু’কবিকে সমানভাবে সম্মানিত করেন। বাংলা সাহিত্যে কবিতায়,উপন্যাসে,নাটকে,সঙ্গীতে ও দর্শনে নজরুলের অনবদ্য উপস্থিতি বাংলা সাহিত্যকে উজ্জ্বল করেছে। তিনি শুধুই কবি ছিলেন না-তিনি ছিলেন মসজিদের ইমাম,গায়ক, অভিনেতা, সম্পাদক ও সাংবাদিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর জ¦ালাময়ী কবিতা কোটি যুবকের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।’

চাঁদপুর শহরের ডিএন হাই স্কুলে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২টায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। নজরুল গবেষণা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী। বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন।

আলোচক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মো.ওয়ালিদ হোসেন খান ।

প্রসঙ্গে ক্রমে –প্রতিভাধর এ বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের জৈষ্ঠের ১১ এবং ২৪ মে ১৮৯৯ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবি তার শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনে সংগ্রাম করেছেন। তিনি বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত ছিলেন।

১৯১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সে সময়ের প্রভাবশালী কবি-সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে আসেন। ধূমকেতু পত্রিকা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯২১ সালে,১৪১ লাইনের বিদ্রোহী কবিতা লিখে সেই সময়ের বাংলাভাষী জনগণ সহ ভারতের জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

১৯২০ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তার সমস্ত কাজের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। তিনি ২,৮০০টি গান, ৯০০টি কবিতা,১০০টি প্রবন্ধ, ৫৫টি বই, ২৫টি নাটক, ১৮টি গল্প, ১৯৪টি গজল ও ইসলামী গান এবং ৪৫০টি শ্যামা গান রচনা করেছেন।

তার মধ্যে নার্গিসের বাড়িতে থাকতেই তিনি ১২০টি কবিতা ও ১৬০টি গান লিখেছেন। ২৩ বছরের এ স্বল্প সময়ে বাংলা ভাষার আর কোনো কবি বা লেখক এত বেশি রচনা রেখে যাননি।‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। মাত্র ২২ বছরের লেখনী জীবনে তিনি প্রায় ৩ হাজার গান রচনা করেছেন, লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস।

সাহিত্য ছাড়াও নজরুল সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। নিজের ‘ধ্রুব’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্য, কবিতা, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তার কবিতা, গান ও গজল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে সমানভাবে সমাদৃত। ২২ বছর বয়সে ‘বিদ্রোহী’ কবি হিসেবে নজরুল যে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তা হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

চিকিৎসার জন্য তিনি ইংল্যান্ড,ভিয়েতনাম,জার্মানি ও রাশিয়া যান। ১৯৭২ সালে কবি নজরুলকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এ মহান বিদ্রোহী কবি। কবির ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

চাঁদপুরের নজরুল গবেষণা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও অবদানের কথা তুলে ধরাই ছিল চাঁদপুর শহরের ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ আলোচনা সভা।

আবদুল গনি
২৫ মে ২০২৪

এছাড়াও দেখুন

cargo---

চাঁদপুর নৌ-থানার অভিযানে ২২ সুকানি ও শ্রমিক আটক

চাঁদপুর মেঘনা নদাতে বালুবাহী জাহাজ বাল্কহেডে অভিযানে ২২ জন সুকানি ও শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *