Wednesday , 19 June 2024
image

পুণ্যময় হোক নতুন বছর

এলো নতুন দিন। নতুন বছর। পাপ-পঙ্কিলতার আঁধার কেটে পুণ্যের সূর্যদয় হোক মুমিন জীবনে। দিন-রাতের এ পরিবর্তন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আল্লাহ বর্ষ ঘূর্ণায়ন সম্পর্কে কুরআনে বলেন,‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস বারোটি’(সূরা তাওবা-৩৬)। নতুন বছরের সূচনায় মুমিনদের নিতে হবে নতুন শপথ। হতে হবে নতুন স্বপ্ন উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন সনের শুরুতে মুমিনদের যে বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া উচিত নিম্নে তা তুলে ধরা হলো-

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ফরজ। কুরআনেও প্রায় ৮২ বার নামাজের আলোচনা এসেছে। আল্লাহ বলেন ‘তুমি পাঠ করো তোমার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে তা থেকে এবং সালাত কায়েম কর। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। এবং আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন (সূরা আনকাবুত-৪৫)। আর হাদিসে বলা হয়েছে কাফির ও মুসলমানের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো নামাজ। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন ‘বান্দা (আনুগত্য) ও কুফরির মধ্যে (পার্থক্য) হলো সালাত ত্যাগ করা’ (মুসলিম-৮২)। তাই নতুন বছরের প্রতিজ্ঞা হোক আর করব না নামাজ কাজা।

গিবত বর্জন

গিবত বা পরনিন্দা আমাদের সমাজে ব্যাপক। নতুন বছরে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারি কখনো গিবত করব না আর শুনবও না। ইসলামে গিবত বলা ও শোনা উভয়টাই নিষেধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: ‘তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি করো না, পরস্পর গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়াকে পছন্দ করো? অবশ্যই তোমরা তা পছন্দ করবে না’ (সূরা হুজরাত-১২)। আর গিবতকারীর শাস্তিও ভয়াবহ। হাদিসের ভাষ্যমতে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না (বুখারি ও মুসলিম)।

সদকা করা

দান-সদকার সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পরও জারি থাকে। দানে সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। আর দূর করে বিপদাপদ। হাদিসে আসছে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দান-সদকা সম্পদ বৃদ্ধি বৈ কমায় না’ (সহিহ মুসলি-২৫৮৮)। অন্য আরেক হাদিসে আসছে সদকা বিপদের ঢাল স্বরূপ। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অতিসত্বর দানের দিকে ধাবিত হও, কেননা বিপদাপদ দানকে অতিক্রম করতে পারে না’ (শুয়াবুল ঈমান : ৩০৮২)।

আর থানভী (রহ.) বলেন ‘মালি ইবাদত মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি উপকারী’। তাই নববর্ষের প্রতিজ্ঞা হোক বছরজুড়ে কিছু না কিছু দান করবই।

নফল ইবাদত

নফল ইবাদতকে ফরজ ও ওয়াজিবের পরিপূরক হিসাবে গণ্য করা হয়। নফল ইবাদতের দ্বারা বান্দা দ্রুত আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করে। তাই নতুন বছরে বেশি বেশি নফল ইবাদতের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া উচিত। আর নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাহাজ্জুদ। রাসূল (সা.) সারা জীবন তাহাজ্জুদ আদায় করেছেন। আর হাদিসে তাহাজ্জুদের স্থান ফরজ নামাজের পর। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন নবিজি (সা.) বলেছেন ‘রমজানের পর রোজা রাখার উত্তম সময় মুহাররম মাস আর ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদ’ (সহিহ মুসলিম-২৭২৫)।

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান
৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
এজি

এছাড়াও দেখুন

sleeping

শিশুর ঘুমের সমস্যা কাটাতে কী করবেন

বড়দের পাশাপাশি শিশুদের ঘুমের ব্যাপারটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ভালো ঘুম না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *