Wednesday , 19 June 2024
Moasjidul aska

জুমাতুল বিদা ও আল কুদস দিবস ৫ এপ্রিল

রমজানের শেষ শুক্রবারকে আল কুদস দিবস ও জুমাতুল বিদা বলা হয়। মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাস দীর্ঘ দিন ধরে ইহুদিদের দখলে আছে। এ পবিত্র মসজিদকে মুক্ত করার দাবিতে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আল-কুদস দিবস।

এছাড়া জুমার দিনকে রমজান ছাড়াও অন্যান্য মাসে গরিবের হজ্জের দিন বলা হয়। মুসলমানেরা রহমত বরকত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের শেষ জুমা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করে থাকেন । এমনিতেই সপ্তাহে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তদুপরি রমজান মাস হওয়ায় এবং রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় এ দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

জুমাতুল বিদার দিন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রধান মসজিদ তথা বড় জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে জেলা ও উপজেলার প্রধান প্রধান মসজিদগুলিতে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুধু তাই নয় মসজিদ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তায়, ছাদে, বারান্দায় মুসল্লিদের কাতারবন্দী হয়ে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের প্রথম কিবলা এবং মক্কা মুয়াজ্জামাহ ও মদিনা মুনাওয়ারার পরে তৃতীয় পবিত্র স্থান। রাসূলে করিম (স.) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে বলেননি। হিজরতের পর বায়তুল মুকাদ্দাস ইসলামের প্রথম কিবলা ছিল। বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার জন্য অসংখ্য ভূ-খন্ডের মতো কোনো সাধারণ ভূখন্ড নয়। এ পবিত্র ঘর থেকেই প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) মিরাজ গমন করেছিলেন।

বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদ এবং তার আশ-পাশের এলাকা বহু নবীগণের স্মৃতি বিজড়িত। এ পবিত্র নাম শুধু একটি স্থানের সাথে জড়িত নয়। এ নাম সব মুসলমানের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নবী-রাসূলের কবর,ওহি ও ইসলামের অবতরণ স্থল। এ নগরী নবীগণের দ্বীন প্রচারের কেন্দ্রভূমি। তাই এ পবিত্র নগরীর প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।

হযরত ইবরাহীম (আ.)কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হযরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হযরত সুলায়মান (আ.) এ পবিত্র মসজিদের পুন:নির্মাণ করেন। ৬৩৮ ঈসায়ী সালে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধিকারে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রীস্টান ক্রুসেডারগণ সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেয়ার পর বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গীর্জায় পরিণত করে।

এরপর ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর ও সিপাহসালার সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী জেরুজালেম শহর পুনরায় মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর হাতে পরাজিত হওয়ার পর খ্রীষ্ট শক্তি পিছু হটলেও ইয়াহুদী চক্র বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি রাখে। তারা ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে সুদূর মদীনা পর্যন্ত সারা মুসলিম এলাকা নিয়ে বৃহত্তর ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করে। তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তুরস্কের তৎকালীন শাসক সুলতান আবদুল হামিদের নিকট ফিলিস্তিনে জমি কেনার অনুমতি চায় এবং এর বিনিময়ে তারা তুরস্কের সকল বিদেশী ঋণ পরিশোধ করে দেবে বলে অঙ্গীকার করে।

সুলতান তাদের এ ষড়যন্ত্রমূলক প্রস্তাব মানেন নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইয়াহুদীরা গোপনে জমি কিনতে থাকে। ১৯১৭ সালে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে ও ১৯২০ সালে সেখানে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং স্যার হার্বাট স্যামুয়েল নামক একজন ইয়াহুদীকে সেখানে বৃটিশ কমিশনার নিযুক্ত করে।

এ জমি কেনায় বহিরাগত ইয়াহুদীদের জন্য ফিলিস্তিনের দুয়ার খুলে যায়। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ইয়াহুদীবাদী উগ্র সংস্থাগুলোকে ফিলিস্তিনে বসবাস ও জমি কেনার জন্য কোটি কোটি ডলার প্রদান করে। ফলে অতি অল্প দিনের মধ্যে বহু সংখ্যক ইয়াহুদী ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ইয়াহুদীদের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারণে আরব মুসলমানদের সাথে দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। অবশেষে বৃটিশ সরকার ফিলিস্তিনকে আরব ও ইয়াহুদীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

যার ফলে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যায়নবাদী অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর ইয়াহুদীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের কচুকাটা করতে থাকে। তাদের অত্যাচারে জর্জরিত আরবরা জীবন বাঁচাতে দলে দলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সত্ত্বেও তখনও বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দখলে ছিল। কিন্তু আরবদের দুর্বলতার মুখে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাঈল যুদ্ধে তা হাত ছাড়া হয়। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদ্স (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের সংগ্রামে দিশেহারা হয়ে ইসরাঈল ফিলিস্তিনের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য ফিলিস্তিনের একটি ক্ষুদ্র অংশে সীমিত স্বায়ত্ত্ব শাসনের কথা বলে কিছু সংখ্যক নেতাকে বিভ্রান্ত করেছে। তথাকথিত শান্তি আলোচনার সুযোগে তারা একে একে ফিলিস্তিনের প্রকৃত সংগ্রামী নেতাদের হত্যা করে চলছে এবং ফিলিস্তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল করে ইহুদী বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ফিলিস্তিনে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে পর্যন্ত তারা বাধাদান করছে।

লেখক-মাও.শামছুদ্দিন ,বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ, ২ এপ্রিল ২০২৪ ।
এজি

এছাড়াও দেখুন

hasina ---

পরিবেশ রক্ষায় গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগ : ৩ বছরে ৩৪ কোটি ৭১ লাখ গাছের চারা রোপণ

ভালো নেই পৃথিবী। ভালো নেই বিশ্ববাসী। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আর চাহিদা মেটানোর আকাঙ্ক্ষায় পরিবেশের ওপর চরম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *