March 3, 2021, 5:14 pm


এক বাড়িতে সুবিধা বঞ্চিত ৭শ’ সনাতন পরিবার

শরীফুল ইসলাম:

মেহারন দালাল বাড়ি। এটি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাঁও ইউয়িনের ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। অনেকেই অবাক হবেন, এই একটি ওয়ার্ডে দেড় কিলোমিটার জুড়ে প্রায় সাড়ে ৭হাজার মানুষের বসবাস। এতে ৭শ’ পরিবার এখানে একত্রে বসবাস করেন। যারা সবাই সনাতন (হিন্দু) ধর্মালম্বি। এছাড়া এই ওয়ার্ডেই ২৩শ’ ভোটার রয়েছে। যাদের ভোটের মাধ্যমে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে থাকেন। মেহারন দালাল বাড়িতে একটি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজারসহ দোকানপাঠ রয়েছে। নারায়নপুর বাজার থেকে দালাল বাড়িতে আসতে প্রায় ৪ কিলোমিটার পারি দিয়ে এখানে আসতে ২৫/৩০ মিনিট সময় লাগে।

মেহারন দালাল বাড়িটির ভিতরে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে জমিদারদের দো’তলা দুটি ভবন। যা কালের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এক সময় জমিদার বংশের বসবাসের মাধ্যমে শুরু হয় এই দালাল বাড়ি। দো’তলা দুটি ভবন দু’টিতে এখনো জমিদারের বংশধররা বসবাস করে আসছেন। একটি ভবনের নাম দ্বারকাপুরি ও অপরটির নাম আম্বিকা ভবন। ভবনগুলো যথাক্রমে নির্মাণ করা হয় ১৩৩৫ ও ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষ জেলে, কৃষক ও ব্যবসায়ী।

এদিকে দালাল বাড়ির চারদিক ঘিরে রয়েছে ফসলি জমি। এই বাড়ির কাছাকাছি নেই অন্যকোন বাড়ি। ফলে এই বাড়ি উপজেলার সকলের কাছে খুব পরিচিত। কিন্তু সময়ের সাথে এখানকার মানুষ বিভন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বাড়িটির প্রধান প্রবেশ সড়কটিই বেহাল দশা। বর্ষা মৌমুসে বাড়ির চারপাশ কাদা পানিতে টইটুম্বুর থাকে। এক সময় এই দালাল বাড়িতে যেতে হলে নৌকা ছিলো একমাত্র ভরসা। বর্তমানে এই সড়কটি আধা পাঁকা রাস্তা হলেও পুরো রাস্তা ভাঙা। কোথাও কোথাও মাটি ধ্বসে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এত জনবহুল একটি বাড়ির জন্য নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। এছাড়া স্বস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্জিত দালাল বাড়ির মানুষগুলো। পুরো বাড়িটি ঘিরে ১টি স্বর্ণের দোকান, ৪টি সেলুন, ২টি ফার্নিচারের দোকান, ২টি মোবাইল সার্ভেসিং, ৪টি মুদি দোকান রয়েছে এখানে।

ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ও শিক্ষার্থী বাধন চন্দ্র দাস বলেন, ছোট একটি বাড়িতে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। এখানে যাতায়েত ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষার সময় পুরোবাড়ি কাদা হয়ে থাকে। তখন চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়ে পড়ে। এছাড়া এখানে একটি উচ্চ বিদ্যালয় করা খুব জরুরী। এখানকার শিক্ষার্থীরা অনেক দূরে গিয়ে লেখা পড়া করতে হয়।

দালাল বাড়ির বাসিন্দা একারশী ও পারবতি বলেন, মহিলাদের খুব কষ্ট করে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। গর্ভা অবস্থায় বেশি দুশ্চিন্তা থাকে। রাস্তা খারাপ থাকার কারনে কোন গাড়ি ভিতরে আসতে চায় না। কাছাকাছি একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকও নেই। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোরবাদি এখানে এখটি স্বাস্থ্য ক্লিকিন তৈরি করে দেওয়ার জন্য।

জমিদার পরিবারের সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থী উত্তম কুমার দাস দালাল (জমিদার) বলেন, আমাদের বংশধররা এখানে অনেক জমি দান করেছেন। এখানে এখানে একটি স্কুলও নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি পরিত্যাক্ত ভবনে রয়েছে। নতুন করে একটি বিদ্যালয় করেছে কিন্তু ভবনের পরিসর ছোট হওয়ায় ছেলে মেয়েরা ঠিক মত লেখা পড়া করতে পারছে না। পরিবার হিসেবে বাড়িটির যায়গা খুবই ছোট। এ কারনে ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান সব বাড়ির মধ্যেই। আমাদের এখন জরুরী প্রয়োজন বাড়ির একটি রাস্তা ও একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক। প্রশাসন আমাদের প্রতি একটু নজরদিলে এই ওয়ার্ডের মানুষ আরেকটু ভালোভাবে বেঁচে থাতকে পারবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মেহারন দালাল বাড়িটির বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি। সেখানে যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয়, আমি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে