January 17, 2021, 6:56 pm


হাজীগঞ্জে নিজ ঘরে মাইক্রো চালককে নিশৃংসভাবে খুন

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোরাগড় এলাকায় বাসার লোকজনের হাত পা বেধে মজনু হোসেন (৩০) নামে মাইক্রো চালককে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে খুন করেছে সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা। একই সময় তারা বাড়ীতে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন মৃত্যু মজনুর বড় ভাই ও মা। তবে পুলিশ বলছে কোন কিছুই লুট করা হয়নি।

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ড টোরাগড় আনোয়ার মিজির বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে। খুন হওয়া মজনু ওই এলাকার আমিন মিয়ার ছেলে। পেশায় সে একজন গাড়ী চালক।

মজনুর ছোট ভাই প্রবাসী মফিজের স্ত্রী মাহমুদা বলেন, মফিজ, তার শ্বাশুড়ী রুপবানু এবং সে ওই বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। অন্যদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

মা রুপবানু বলেন, গভীর রাতে আমার ঘরে দু’টি লোক প্রবেশ করে আমার এবং মফিজের স্ত্রী মাহমুদার হাত পা বেধে মজনুর কক্ষে যায়। পরে তাদের সাথে আরেকজন যোগ হয়। আমি তাদেরকে সবকিছু নিয়ে যেতে বলি, কিন্তু আমার ছেলের যেন কোন ক্ষতি না করে। পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ দূবর্ৃৃত্তরা মজনুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার মধ্যে আঘাত করে হত্যা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তারা ঘরে থাকা সকল জিনিসপত্র তছনছ করে ফেলে রাখে।

মজনুর প্রবাস ফেরৎ আরেক ভাই মন্টু জানায়, তিনি পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোরে ঘরের দরজা খোলা দেখে প্রবেশ করেন এবং সবকিছু এলোমেলে দেখে স্থানীয় কাউন্সিলার এমরান হোসেনকে জানান। এমরান হোসেন তাৎক্ষনিক বিষয়টি হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানায়।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুরো বাড়ীটি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

চাঁদপুর পিবিআই এর পরিদর্শক আবু বকর বলেন, আমরা এসে যা দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে কোন লোক বাহির থেকে এই বাড়ীতে প্রবেশ করেছে মনে হয় না। আবার কোন দূর্বৃত্ত ঘর থেকে বাহির হয়েছে এমন কোন চিহ্ন পাইনি। তারপরেও পুরো হত্যার ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। বাড়ীর ছাদে দু’টি ব্রিফকেস পাওয়াগেছে। সেই ব্রিফকেসের কাপড়গুলো এলো মেলো রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) আফজাল হোসেন জানান, মজনুর খুন হওয়ার বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখনই এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা যাবে না। আমাদের তদন্ত কাজের সাথে পিবিআই সদস্যরা যোগ হয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, বাড়ীর লোকজন অসুস্থ্য হওয়ায় তাদের সাথে কথা বলে ঠিক কিছু বুঝা যাচ্ছেনা। তারা একটু সুস্থ্য হলে কথা বলে খুনের রহস্য ‍উদঘাটন করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কারো সাথে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় থাকে সে বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তদন্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে