October 28, 2020, 7:55 pm


টাকা না দিলে, ভাতার কার্ড পাওয়া হয়না !! ইউপি সদস্য নূর জাহান

সফিকুল ইসলাম রিংকু :

টাকা না দিলে, ভাতার কার্ড পাওয়া যায়না। ভাতার কার্ড করতে গেলে এই কথাই বলেন, ইউপি সদস্য নূর জাহান। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় দারিদ্র বিমোচনে সরকার বিভিন্ন ভাতা প্রদান করছে। আর এই সকল ভাতার কার্ড করতে ভাতা নিতে পছন্দ করেন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নূর জাহান বেগম! মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ওই ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বারবার উঠে আসছে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নূর জাহানের কাছে কেউ ভাতার কার্ড করার জন্য সাহায্য চাইলে তিনি তার বিনিময়ে টাকা দাবি করেন। দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে অফিস খরচের কথা বলে আদায় করে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। অপরদিকে বর্তমান সরকার কোনো খরচ ছাড়াই দরিদ্র মানুষের জন্য প্রদান বিভিন্ন ধরনের ভাতা সুবিধা। ভাতা পাওয়ার জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষ যখন জনপ্রতিনিধির কাছে যান, সেই সময় জনপ্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। আর এই সব কাজে টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন ইউপি সদস্য নূর জাহান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাতৃভাতা ভাউচার কর্মসূচীর আওতায় ওই ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী শান্তি বেগমর ৯ হাজার ৬শত টাকা উত্তোলন করেন ওই ইউপি সদস্য। শান্তি বেগমকে তিনি ১ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজেই আত্মসাতের পায়তারা করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে অবহিত করলে ইউপি সদস্য বাকি টাকা ফেরত দেন। একই কমূর্সচীর আওতায় ভাতার সুবিধা পেতে ইউপি সদস্য নূর জাহার কাছে ধরনা দেন শিবপুর গ্রামের শরীফ পাটোয়ারীর স্ত্রী শিরিনা। তার কাছ থেকে অফিস খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন ওই ইউপি সদস্য। সেই সাথে নিজের বোন কুলছুমা গর্ভবতী না হয়েও ভাতা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনগন। যদিও এই কথা কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ওই ইউপি সদস্য।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই ইউপি সদস্য ইউনিয়নের লাকশিবপুর গ্রামের মৃত কমির উদ্দিন প্রধানের ছেলে কালু মিয়ার বয়স্ক ভাতার কার্ড করার নামে প্রথমে ২ হাজার এবং পরে ২ হাজার করে মোট ৪ হাজার টাকা আদায় করে। একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়ে ভাতার প্রথম কিস্তির টাকা থেকে আরো ৩ হাজার টাকা আদায়র করেন।

এছাড়াও ওই গ্রামের বিকু মিয়ার ছেলে সেকান্তর মিয়ার কাছ থেকে জেলে কার্ড/ভ্যান গাড়ীর জন্য ২২শত টাকা, মোহাম্মদের কাছ থেকে শেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে ১৫ শত টাকা, সেকান্তরের চাচাত ভাই জামালের মৎস কার্ডের শেলাই মেশিন দিবে বলে ১৫ শত টাকা, মৃত সেকান্তর প্রধানের স্ত্রী ছালেহা বেগমকে বিধবা কার্ড করে দিবে বলে ৩ হাজার টাকা এবং ভাতার কিস্তি তোলার পর আরও ৩ হাজার টাকা, আব্দুল মালু মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়ার কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দিবে বলে তার কাছ থেকেও ৩ হাজার টাকা আদায় করার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওনার কাছে (নূর জাহান বেগম) কোনো কাজ নিয়ে গেলেই তিনি আগে টাকার গন্ধ খুঁজে বেড়ান। এলাকার মহিলারা সাহায্য সহযোগিতার জন্য ওনার কাছে যান, কিন্তু তিনি সহযোগিতার জন্য টাকা নেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছ থেকে বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সরকারের সুবিধা ভোগের জন্য টাকা দিতে হবে এমন রীতি তিনি সৃষ্টি করেছেন। এমন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, আমাদের দপ্তরের গর্ভবতী মায়েদের জন্য যে ভাতা প্রদান করা হয় তার জন্য কোনো খরচ নেওয়া হয় না। কেউ যদি এই কথা বলে কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করে তাহলে তারা যেন অবশ্যই আমাদের অবহিত করেন। এছাড়া এখন ভাতার টাকা যার যার মোবাইল ব্যাংক এর মাধ্যমে প্রদানের কাজ চলছে।

নুর জাহান বেগম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার কলে বলেন, একটি কুচক্রি মহল আমার মান সম্মান নষ্ট করার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার করছে। শান্তি বেগমের সম্পূর্ণ টাকাই দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এছাড়া আমার বাড়ির কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে