September 30, 2020, 7:29 pm


আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করলে সোনার বাংলা হবেই:কাজী শামস আফরোজ

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ:

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক কাজী শামস আফরোজ বলেছেন, আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যদি আমরা সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে পালন করি তবে এ দেশ একদিন সোনার বাংলায় পরিনত হবেই।

তিনি শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিউটের ট্রেনিং সেন্টারের হল রুমে অনুষ্ঠিত বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এই কর্মশালায় চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ও কুমিল্লা জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ৩৪ টি উপজেলার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, খামার ব্যাবস্থাপক, খামারি, চাষী, সুফলভোগী, জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ শতাধিক লোক অংশ গ্রহন করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের উপ পরিচালক এস এম মহিব উল্যাহ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো: লিয়াকত আলী, মৎস্য অধিদপ্তর এর পরিচালক ( রিজাভর্) মো: সিরাজুর রহমান, মৎস্য অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক ( মৎস্য চাষ) আজিজুল হক, চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: আনিসুর রহমান, প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুস সাত্তার, বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাজমহল বেগম।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক দেওয়ান, জেলা কান্ট্রি ফিস মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক, হাইমচর উপজেলার মৎস্য চাষী বাচ্ছু মিয়া খান, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান, খামারি আলী আহমেদ মিয়াজি, বাসসের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিটিভির জেলা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া জীবন প্রমুখ। বক্তারা সকলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মৎস্য উৎপাদন অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই প্রকল্পটি আরোও সময়ের জন্য বৃদ্ধি করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

কর্মশালায় জানানো হয় বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ হতে ২০২০ এর আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনটি জেলার ৩৪ টি উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের এ আই জি প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে ১৯৮৪ ব্যাচ, প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ৩৯ হাজার ৬৮০ জন, প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত জেলেদের আয়বর্ধক উপকরণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ১৯০ জনকে, মৎস্য চাষী প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে ৫৬৬ ব্যাচের মাধ্যমে ১১ হাজার ৩২০ জন জেলেকে, সরকারি পুকুর ও অন্যান্য বদ্ধ জলাশয় পুনঃখনন করা হয়েছে ১১.৩৫ লক্ষ ঘন মিটার , বিল/ জলাশয় পুনঃখনন হয়েছে ১১.৯৬ লক্ষ ঘন মিটার, মৎস্য অভয়আশ্রম স্থাপিত হয়েছে ৪০ টি,পেনে মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপিত হয়েছে ১৯৩ টি, খাঁচায় মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে ১২০ টি, পাবদা,গুলশা, টেংরা, মাগুর, শোল, শিং, কৈ, তেলাপিয়াসহ অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে ৪৫০ টি, জেলেদের মাঝে জাল বিনিময় হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৫ টি এর সুফল পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন জেলে, মৎস্য আহোরনোত্তোর পরিচর্যা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ৪ টি, মৎস্য প্রশিক্ষন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে ১ টি। কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জনবল কাঠামোর নতুন অর্গানোগ্রাম মোতাবেক দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে সারা দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার জন্য আহবান জানান।

মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো: লিয়াকত আলী বলেন, দেশী প্রজাতীর মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে মৎস্য চাষীরা উপকৃত হয়েছে, এবং জেলাগুলোতে মৎস্য উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্ঞান ভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ করা যাবেনা, জাতির জনকের কন্যা প্রধান মন্ত্রীর অক্লান্ত চেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে অনেকদূর। সমগ্র অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন মৎস্য অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক সবিতা দেবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে