September 29, 2020, 11:10 am


দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশে সয়লাব চাঁদপুর মৎস্য আড়ৎ: ইলিশ শূণ্য চাঁদপুরের পদ্ম-মেঘনা

মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ॥

‘ইলিশের বাড়ী’ খ্যাত চাঁদপুর পদ্মা মেঘনা নদীতে ইলিশের দেখা নেই। এতে হতাশা প্রকাশ করছে জেলেরা। তবে দক্ষিণাঞ্চলে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। সেই ইলিশে সয়লাব চাঁদপুরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (মৎস্য আড়ৎ)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় আড়তে গিয়ে দেখা যায় পুরো ঘাট জুড়ে ইলিশ আর ইলিশ। আড়ৎদার, শ্রমিক, বরফ ব্যবসায়ী সকলেই এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে যেসব ইলিশ আমদানি হচ্ছে সেব সব ইলিশ রাত ৯টার মধ্যে বিক্রি হয়ে আড়ৎগুলো খালি হয়ে যাচ্ছে। মাছগুলো ট্রাক, ট্রেন ও বাসে করে রপ্তানি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

শুক্রবচার (১১ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ দুই দিনে দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৩০ থেকে ৪০টি ইলিশ ভর্তি ফিশিং বোট (ট্রলার) আসায় ইলিশের এই ছড়াছড়ি বলে জানিয়েছেন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ীরা। ফিশিং বোটের পাশাপাশি নোয়াখালী. হাতিয়া, ভোলা ও লক্ষীপুর থেকে ট্রাক ও পিকআপ বোঝাই করে আনা হয় প্রচুর ইলিশ। সাগরে ইলিশের ব্যাপক আমদানিতে ইলিশের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত জানান, এসব ইলিশ সাগরের কাছাকাছি নোয়াখালীর হাতিয়া, বরগুনা ও ভোলা জেলার। গত দু’দিন ইলিশ আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে এখন ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রামের প্রতি কেজি ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭ থেকে থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি দরে। একদম বড় সাইজের ইলিশ অর্থাৎ এ কেজি থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১৮শ’ টাকা কেজি।

চাঁদপুর জেলে সমিতি নেতা তসলিম বেপারী বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম চলে যাচ্ছে। কিন্তু চাঁদপুরে পদ্মা- মেঘনায় রুপালি ইলিশের দেখা নেই। এ জেলার নিবন্ধিত ৫০ হাজারের অধিক জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা হতাশ। তারা খুবই কষ্টে দিনযাপন করভে। তবে কিছু জেলে উপায় না পেয়ে সাগরে গিয়ে ইলিশ আহরণ করছেন। সাগরে গিয়ে ইলিশ আহরণে অনেক সময় জেলেরা প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও পড়েন।

সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার একাধিক জেলে জানান, চলতি বছরে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গত ২৩ জুলাই এ সময়সীমা শেষ হয়েছে। করোনার কারণে ওই সময়টাতে জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর নদীতে নামলেও জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছিল না। তবে এক সপ্তাহ ধরে সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

আগামী ১০ অক্টোবর থেকে আবাসছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে যদি চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা আশা নুরুপ ইলিশ না পাওয়া যায় তবে জেলেরা মহাজনী দাদন নিয়ে বিপাকে পড়বে। এমনকি কোন কোন জেলে এ পেশা ছেড়ে দিতেও বাধ্য হবে বলে জানান মৎস্য ব্যবসায়ী জলিল মিয়া।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, জাটকা সংরক্ষণের সময় চাঁদপুরের অধিকাংশ জেলে বেপরোয়া হয়ে জাটকা নিধন করে। ইলিশ না পাওয়ার এটিও একটি কারণ। এছাড়াও পাথরঘাটা, বড়গুনা ও ভোলার শেষ প্রান্তে জেলেরা নদীতে ভরা মৌসুমে নদীর এপাড় থেকে উপাড় বড় বড় দৈর্ঘ্যরে জাল পেতে রাখে। এতেও উজানে মাছ আসার একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় সেপ্টেম্বর শেষ থেকে অক্টোবর মাসে পরিপক্ক ইশিগুলো সাগর থেকে ডিম ছাড়ার জন্য মিঠা পানিতে চলে আসে। তখন পদ্মা-মেঘনায় বেশী ইলিশ পাওয়া যায়। কিন্তু মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ২২ দিন চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত সময়সীমা মন্ত্রণালয় থেকে ঠিক করা হয়নি।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ না পাওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন স্থানে চর জেগে পানির স্রোতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, যত্র-তত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছেনা।

এ কর্মকর্তা আরো বলেন, পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ পাওয়া না গেলেও কিন্তু সার্বিক ভাবে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন পূর্বের তুলনায় ৫গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশে^র ৭০ ভাগ ইলিশ বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিশে^র মধ্যে এক মাত্র বাংলাদেশের ইলিশই সু-স্বাদু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে