July 13, 2020, 1:08 am


লকডাউনে থাকা পরিবারের উপর ইউপি চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী হামলা, বেরিয়ে আসলো গোপন রহস্য

কচুয়া প্রতিনিধি:

কচুয়ার আশ্রাফপুরে তুচ্ছঘটনাকে কেন্দ্র করে ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় এক যুবককে বেধড়ক পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসীবাহিনী। এ ঘটনায় ওই ভূক্তভোগী যুবক চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ ‍জুন কচুয়া উপজেলার ৪নং ওয়ার্ড জগতপুর গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত নুরুল আফছারের ছেলে মাঈনুল ইসলামের উপর এ নির্মম নির্যাতন করেন ১২নং আশরাফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ এলাহি প্রকাশ সুভাষ ও তার সন্ত্রাসি বাহিনী।

এলাকাবাসি জানায় মাঈনুল একজন সহজ, সরল ও শিক্ষিত ছেলে। ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ এলাহি প্রকাশ সুভাষের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, ধর্ষণসহ কয়েকটি মামলায় সে কয়েবার জেলও খেটেছে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রতিবারে জেল থেকে বের হয়ে আবারো তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। এই সুভাষ এক সময় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিল। সে সময় তার ভয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী ঘরে ঘুমাতে পারতোনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও এলাকায় তার রাজত্ব এখনো বহাল তবিয়তই আছে।

মাইনুলের সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক জুলুম ও নির্মমভাবে হত্যার চেষ্টায় অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে এলো এক বিরাট গোপন রহস্য!!!

গত ২৩শে জুন রোজ মঙ্গলবার তাদের বাড়ির সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যাংকার ‘করোনা’ পজেটিভ হয়। তারপর পুলিশ এসে তাদের বাড়ি লকডাউন করে দেয় সেদিন মাগরিবের আযানের সময়। সেই হিসেবেই ভিকটিমের বাড়িতে লকডাউন চলছে পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য। তার পরের দিন ১২নং আশরাফপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ‘মাসুদ এলাহি সুবাষ’ তার আরেক সহযোগি সহকর্মি ‘আতিকুল হক বাচ্চু’কে নিয়ে সকাল ফনে ১০টার সময় উক্ত লকডাউন ওয়ালা বাড়িতে আসে বাড়ির খোঁজ খবর নিতে। তারা দু’জন লকডাউন দেয়া বাঁশের বাহিরেই ছিল, আর ভিতরে ছিল উক্ত বাড়ির কয়েকজন পূরুষ ব্যক্তি। যারা মাইনুলের বাপ-দাদার পাওনা সম্পদ জোড় যুলুম করে ভোগ করে মাইনুলকে তার পাওনা সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে থাকেন।

তাই মাইনুল কয়েক ধপায় তাদের সাথে পাওনা সম্পদ চেয়ে অনুরোধ করে এবং চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকও হয়, কিন্তু তারা মাইনুলের পাওনা সম্পদ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেসব জের দরেই মাইনুলকে তারা হুমকি হামকি সহ বিভিন্ন ভাবে সামাজিক হয়রানিও করে। তাদের এই পূর্ব পরিকল্পনার জের দরে চেয়ারম্যান কে দিয়ে মাইনুলকে মারধরের পূর্ব পরিকল্পনা করে থাকে। তার কিছুক্ষনপর সেখানে উক্ত ভিকটিম মাইনুলও আসে এবং সবার মত সেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চেয়ারম্যানের সাথে লকডাউন সম্পর্কে সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কথা বার্তা বলছেন। কিন্তু আবছুসের বিষয়, যেখানে লকডাউনে থাকা ব্যক্তিদের সাথে সুবিধা অসুবিধা নিয়ে চেয়ারম্যান মানবিক আচরণ করবেন। তা না করে তিনি তার সাথে আসা সহযোগি বাচ্চু, যিনি ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ দিন ঢাকার রমনা থানার নয়াটোলা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া খুনের আসামি হিসেবে এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অপরাধে কয়েকবার জেল জরিমানার কবলে পড়েন ঢাকাতে এবং বর্তমানে ঢাকা থেকে পালিয়ে এখন গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন ও ভূমি দস্যুতা সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকেন, সেই বাচ্চুর ইন্ধনে এবং মাইনুলের চাচাদের (নাছিম, যিনি একসময় চেয়ারম্যানের সাথে বি.এন.পি’র গ্রাম্য ক্যাডার ছিলেন।

(তুহিন, কবির) ইন্ধনে হঠাৎ চেয়ারম্যান লকডাউনের আইন অমান্য করে অর্থ্যাৎ লকডাউন দেয়া বাঁশের নিচে দিয়ে উক্ত লকডাউন ওয়ালা বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে (যাহা বেআইনি ছিল) এবং আরো ১৪/১৫ ফুট দূরে বাড়ির ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা মাইনুলের নিকট গিয়ে তাকে কতগুলো চড় সহ বুকে ঘুষি মারে ও হাত দরে টেনে হেছরে লকডাউনের বাঁশের বাহির নিয়ে যায় এবং সেখানে চেয়ারম্যান ও বাচ্চু সহ মাইনুলকে আরো বেশি করে কীল লাথি ঘুষি মারতে থাকে, যার ফলে মাইনুল মাটিতে পা মচকে পড়ে যায়, তাতে তাদের এলোপাথাড়ি মারধর আরো বেড়ে যায়, সেখানে একজন বাঁধা দিতে চাইলে বাড়ির বাকি অন্যরা ঐ ব্যক্তিকে নিষেধ করে এবং সেখানে উপস্থিত থাকা অন্য কোন ব্যক্তিই তাকে ও অপরাধিদের থামাতে চেষ্টা করে নি, বরং পূর্বের সত্রুতার কারনে আরো ইন্ধন দিচ্ছে। যার ফলে অসহায় ও নিরুপায় মাইনুল আত্মরক্ষা ও বাঁচার জন্য মাটিতে পড়ে থেকে মার খাওয়া অবস্থায় নিজের পা থেকে খুলে যাওয়া ‘জুতা’ চেয়ারম্যানের দিকে ছুঁড়ে মারে। ঠিক তখনই তার তামাশা দেখা চাচারা বলতে থাকে চেয়ারম্যানকে জুতা পিটা দেয়া বেয়াদবি হল মাইনুলের। আর তাদের ইন্ধনে বাচ্চু ও সুবাষ সন্ত্রাসরা মাইনুলকে মধ্যযুগীয় ভাবে আরো বেশি মারধর করে।

একপর্যায়ে শুবাষ ও বাচ্চুর সাথে ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার ফারুকও উক্ত স্থানে এসে হাজির হয়। তখন মাইনুলের সম্পদ জোর যুলুম করে ভোগ করা চাচা নাছিম তুহিন কবির ও আরেক চাচা তাজু’র ইন্ধনে চেয়ারম্যান সুবাষ, সন্ত্রাসের কিং বাচ্চু ও মেম্বার ফারুক লকডাউন অমান্য করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে মাইনুলকে তাদের ঘর থেকে বের করে এনে নির্মম ভাবে অমানুষের মত হত্যার উদ্দেশ্যে ২য় ধপায় এলোপাথাড়ি ভাবে মারতে থাকে। তারপরই বি.এন.পি’র আরেক ক্যাডার, যে রাতদুপুরে ছুরি ডাকাতি করতো আশে পাশে, দিনের আলোয় ইয়াবা গাঁজা বিক্রির করে জীবিকার্জন করছে, সেই ২০০১-২০০৬ সালের কুখ্যাত সন্ত্রাস ও বিভিন্ন দরনের অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে মামলার আসামি ‘দুলাল মিয়া’ গঠনাস্থলে আসে এবং বাকি সন্ত্রাসদের মত সেও অসহায় ন্যায় নীতিবান ‘মাইনুল’কে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে।

মারতে মারতে মাইনুলকে আধমরা করে ফেলে এবং সে ব্যাথার যন্ত্রনায় কিছুটা সময় বেহুসও হয়ে যায়। পরে আশে পাশের লোকজন তাকে স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র নেয়, তার শরীরের অনেক জায়গায় মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছে এবং কিছু কিছু জায়গায় ফেটে গেছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে পাশের এক মহিলা বলেন, উক্ত ঘটনা নাকি পূর্বের পরিকল্পিত, মাইনুলের নাকি কোন দোষ ছিল না, হঠাৎ করেই সুবাষ তাদের লকডাউনে থাকা বাড়ির ভিতর ঢুকে তাকে মারধর করে এবং মারতে মারতে টেনে বাহিরে নিয়ে আসে, এরপর সহযোগি বাচ্চু সহ আরো অনেক মারে, কেউ তাকে না বাঁচানোর কারনে নিরুপায় হয়ে সে সুবাষ’কে হাতের কাছে পাওয়া ‘জুতা’ চুড়ে মারে।

কয়েকজন মহিলারা বলেন, ভিকটিমের চাচারা যখন তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা না করে আরো ইন্ধন দিলো এবং সেখানের এক ব্যক্তি বাঁধা প্রদান করার চেষ্টা করতে চাইলে তাকে সবাই নিষেধ করলো, সুতরাং তাতেই প্রমাণ হয় ঐ জোর যুলুম করে সম্পদ ভোগ কারী চাচারাও এই ঘঠনার সাথে প্রত্তক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছেন এবং এটা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ঘঠনা।

পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি বললেন, মানুষ মানুষ কে এমন ভাবে হিংস্র হয়ে মারে না যেভাবে বেচারা মাইনুলকে ঐ বি.এন.পি’র নরপিচাস প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত সন্ত্রাস’রা মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও হামলা করে!

বর্তমানে উক্ত ভিকটিম মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুর সাথে মুখোমুখি লড়াই করছেন। তার শরিলের বেশ কয়েকটি স্থানের হাড় আঘাতের ছোঁটে থেঁথলে গেছে। এছাড়াও তার বাম হাতের সীনার হাড় ভেঙ্গে জয়েন্ট থেকে খুলে গেছে, শরিলের বিভিন্ন জায়গায় নির্মম ক্ষতের দাগ পড়ে গেছে। ডান হাতের কবজি সহ ২টা আঙ্গুল ফেটে গেছে। বুকে ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও রক্ত জমাট সহ বেশ ব্যাথা আছে।

এলাকার আশে পাশের প্রায় প্রতিটি নারী পুরুষ তার জন্য আবছুস ও কাঁন্না করছে, সবাই বলছে তার কোন খারাপ রেকর্ড নেই, সে তাদের এলাকার একজন সরল ও সাদা মনের মানুষ এবং ন্যায় নীতি ও আদর্শবান ধার্মিক ছেলে। এলাকার সুশীল শ্রেনীর মানুষের প্রশ্ন হল, ঐ বাচ্চুর মত একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খুনি কিভাবে কচুয়া উপজেলায় সরকারি টেন্ডারে কয়েক কোটি টাকার ঠিকাদারির কাজ পায়!!

মুরুব্বি শ্রেণীর ব্যক্তিদের কথা হচ্চে এলাকাবাসি সেই ২০০১-২০০৬ সালের সন্ত্রাসীদের তান্ডবলীলা হামলা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে নিরাপত্তা চায় শান্তি চায়, ফিরে যেতে চায় না আবার সেই পূর্বের আতংকে।

এলাকার সবাই এই সন্ত্রাসী হামলার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকা সুবাষ সহ তার সহযোগি সকল সন্ত্রাসদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার ও মাইনুলের ক্ষতিপূরন সহ এলাকার সকলের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ কচুয়া উপজেলার সম্মানিত এম.পি ড.মহিউদ্দীন খান আলমগীর স্যার সহ সকল সম্মানিত ব্যক্তি বর্গের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

উল্লেখ্য যে, উক্ত ভিকটিম ‘মাইনুল’ শারিরিক ভাবে যে চোঁট বা আঘাত পাইছে তাতে সে ভবিষ্যতে কিছু করে চলতে পারবে বলে দুর্বিসহ মনে হচ্ছে, তাই সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি এবং এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার আহবান যানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে