July 6, 2020, 11:27 am


স্বায়ত্তশাসন ও উপাচার্যের ক্ষমতার স্বরূপ

 ——খান মাহমুদ——

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই হলো জ্ঞান উৎপাদন এবং জ্ঞানের চর্চা অব্যহত রাখা। স্কুল বা কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল পার্থক্য এ জায়গাতেই। মুক্ত চিন্তাকে অব্যহত রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। আর এই সমস্ত কর্মকাণ্ড চলমান রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা অপরিহার্য বিষয়। কেননা, স্বাধীনতা হীনতায় চিন্তার উৎপাদন এবং বিকাশ অসম্ভব। কিছু দক্ষ শ্রমিক তৈরী হতে পারে বড়জোর! দেশ ও জাতির বিকাশ শৃঙ্খলিত হয়ে পড়ে। দাসত্বের শৃঙ্খলে চিন্তা বাঁধা পড়ে। তাই,স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলমান রাখার জন্য অপরিহার্য। এর উপরেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা।

জ্ঞানচর্চার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। কেননা সত্য কোন রাষ্ট্রিক বিধি, কোন সামাজিক নিষেধ, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে না। প্রচলিত জ্ঞান ও সত্যের সঙ্গে মিল নাও হতে পারে, প্রথাগত সামাজিক, রাষ্ট্রিক, ধর্মীয় বিশ্বাসের মিল না হওয়ায় স্বাভাবিক, কেননা প্রথা না এড়াতে পারলে জ্ঞানের অগ্রগতি অসম্ভব। যে জ্ঞান প্রথা পরিক্রমায় ব্যস্ত, তা কোন জ্ঞান নয়। সভ্যতার ইতিহাস প্রথা ও মুক্তজ্ঞানের সংঘর্ষে পরিপূর্ণ। (আজাদ, হুমায়ূন ; ১৯৯৬)

একাডেমির এই স্বাধীনতা অর্জন মোটেও কোন সহজ কাজ ছিলো না। বহু কণ্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে পেতে হয়েছে স্বাধীনতা। এখনো অবশ্য স্বাধীনতা রক্ষা আথবা অর্জনের জন্য লড়াই করে যেতে হচ্ছে। আগে চার্চ বা সমমনা প্রতিষ্ঠান আর বর্তমান সময়ে এসে রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে এই দ্বন্দ্ব জারি আছে এখনো। সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে না বরং পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বলায় চার্চের হাতে জীবনের শেষ নয় বছর গৃহবন্দী কাটিয়েছিলেন গ্যালিলিও। আবার হিটলারের শিক্ষা নীতি সমর্থন না করায় চাকুরি হারিয়েছিলেন ১৫০০ ফ্যাকাল্টি!

১৯১৫ এর দিকে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সংগঠন আন্দোলন শুরু করে একাডেমিকদের স্বাধীনতার জন্য। তারা তিনটি মূল দাবী সামনে রেখে আন্দোলনে নামেন। গবেষণার স্বাধীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে পাঠদানের সুযোগ ও বক্তৃতা প্রদান এবং কাজের স্বাধীনতার দাবী তোলে আমেরিকার অধ্যাপকদের সংগঠন ‘AAUP’। পরবর্তীতে কলেজগুলোতেও তারা এ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেন। ফলশ্রুতিতে এটি, ‘1940 Statement of Principles on Academic Freedom and Tenure’ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে বহু পণ্ডিত এবং সংস্থা এটি সমর্থন করে। (Dea, Shannon; 2018: A brief history of academic freedom)

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও এর কিছুটা ঢেউ আছড়ে পড়েছিলো। তাছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিমুখীতার প্রভাবও ছিলো। যার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন নীতি নির্ধারকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকৃতি দেন; বা বলা যায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ঘটা ঘটনাগুলোর জন্য দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রণীত হয় ‘৭৩ এর অধ্যাদেশ।

মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশের সংবিধান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসন চর্চার অন্যতম উদাহরণ। দক্ষ বাজিকরের হাত সাফাই’র মত সূক্ষ্ম নীতিমালার কারসাজির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্হাপন করা হয়েছে জবাবদিহিতার উর্ধ্বে একনায়কের আসনে। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,

(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রীসভা থাকিবে। এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন সেরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।

(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।

(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়ী থাকবেন। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ৫৫ অনুচ্ছেদ)

অর্থাৎ, ক্ষমতার অতি কেন্দ্রিকরণ এর এক অনন্য নজির স্হাপন হয়েছে। সবাই ঘুরেফিরে প্রধানমন্ত্রীর বলয়ে বন্দী এবং প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহির উর্ধ্বে। অনেকটা চীফডম ব্যবস্হার চীফ সদৃশ্য। তো যেখানে সংবিধানেই এমন কারসাজি সেখানে স্বায়ত্তশাসনের ঘোষণার আড়ালে যে শুভঙ্করের ফাঁকি থাকবে তা সহজেই অনুমেয়। স্বায়ত্তশাসন হয়ে যায় আয়ত্ত্বেশাসন!

সর্বপ্রথম যে অসারতা নজরে আসে তা হলো আচার্য বা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপাচার্য নিয়োগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা না থাকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়  শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত থাকা আদতে প্রশাসনকেও স্বৈরাচারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলে। উপাচার্য তো মাঝারি মাপের সম্রাট হয়ে উঠেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান সকল কিছুর উপর উপাচার্যের রয়েছে একচ্ছত্র অধিকার! ‘৭৩ এর অধ্যাদেশের ধারা ১২ তে উপাচার্যের ক্ষমতা বিবৃতি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং একাডেমিক সর্বোচ্চ কর্তা। তিনি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন কমিটির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার রাখেন। পছন্দ না হলে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারেন। কমিটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে অপারগতা দেখালে উপাচার্য তা সরাসরি সিন্ডিকেটে পাঠান। সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার ফোরাম। ১৫/১৬ সদস্যের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হয়। আবার আইন অনুযায়ী এর ৭ জন সদস্যই থাকেন উপাচার্যের দিকে। ফলে, উপাচার্যের বিরোধিতা করা আর আসমানের দিকে থু থু নিক্ষেপ করা একই জাগায় এসে দাড়ায়!

সম্রাটের রাজত্বে আয়-উন্নতির জন্য সম্রাটের আজ্ঞাবহ থাকার মতই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও উপাচার্যের আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অপরিহার্য অংশ হিসেবে উপাচার্যের পূর্ণ আনুগত্য সহকারে বা’য়াত নিতে হয়। কর্মরত শিক্ষকরাও পদোন্নতি, প্রশাসনিক পদ প্রাপ্তির আশায় উপাচার্যের পতাকাবাহক হিসেবে নিজেদের জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্র সংসদ তার সভাপতিও উপাচার্য। আর ছাত্র সংসদ চাইলেই উপাচার্য ভেঙ্গে দিতে পারেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর হওয়া ডাকসু নির্বাচনের পূর্বে এটি সংশোধনের দাবী তুলেছিলো ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ বাদে বাদবাকি সব প্যানেল। তবুও, ব্যাপারটির কোন সুরাহা হয়নি।

উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটু নজর বুলানো যাক। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাটিউট বা নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেট। সিনেটরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন জনের প্যানেল থেকে একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি। সিনেটের মোট সদস্য সংখ্যা ১০৫। এর মধ্যে ৩৫ জন শিক্ষক, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট, ৪০ জন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ দ্বারা মনোনয়নে এবং ৫ জন শিক্ষার্থী যারা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মাধ্যমে সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ও মনোনীত হন। গেল ২৮ বছর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নেই। সিনেটের ২০ জন সদস্যর উপর রাষ্ট্রর প্রত্যক্ষ এবং ২০ জনের উপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকে।  ( মাহমুদ, রেজা আরিফ; ২০১৯ : বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন অর্থায়ন || রাষ্ট্র – বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্ক পাঠ : মুক্তিপরায়ন রূপকল্প; অরাজ)

গেলো বছর তাও যে একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলো তাতে ক্ষমতাসীনদের নগ্ন হস্তক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের নামকাওয়াস্তে তাও যতটুকু জবাবদিহিতার সম্পর্ক ছিলো তাও বিলোপ করে দিয়েছে।

এতো উপাচার্যের আলাপ গেলো। এবার দেখা যাক আরো বৃহত্তর পরিসর থেকে দেখলে আসলে এই ক্ষমতার খেলা কোথায় গিয়ে দাড়ায়। উপাচার্যকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি যিনি আদতে কাগজে কলমে ক্ষমতাবান। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেয়ার অর্থ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ (বাস্তবিক অর্থে হুকুম)। অর্থাৎ উপাচার্য নিয়োগ এবং তার কথিত স্বাধীন কর্মকাণ্ড একটি সফল পুতুল নাচের মঞ্চায়ন। পুতুল নাচের মতই প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গুলির সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় সকল কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়। এটা একটা চেইনের মত কাজ করে।

উপাচার্যকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়াও একটা কৌশলগত চাল মাত্র। উপাচার্য নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। মূলত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলনই দেখা যায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য যে একজন পার্টিজান লোক হবেন তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে উপাচার্যদেরও পরিবর্তন হতে দেখা যায়। আর এই একজন সকল ক্ষমতার আঁধার হওয়ার ফলে একটা গুটি সরিয়েই দাবার ঘরে কিস্তিমাত করা সহজ!

‘৭৩ এর অধ্যাদেশের স্বায়ত্তশাসন শুভঙ্করের ফাঁকি হলেও তা এখনো কিছুটা রক্ষাকবচ হয়ে বাংলাদেশের পাবলিক ভার্সিটিগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দুর্নীতি ইস্যুতে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সম্ভবত। প্রধানমন্ত্রী প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েই বলেছিলেন যে সরকার টাকা দিয়ে পাবলিক ভার্সিটিগুলোকে চালাচ্ছে। তাই সেখানে কোন প্রকার অস্হিরতা বরদাশত করা হবে না। অর্থাৎ সরকার পরোক্ষভাবে ভার্সিটিগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও স্বায়ত্তশাসন নামক রক্ষাকবচের জন্য পুরোপুরি কব্জা করতে পারছে না। কারণ উপাচার্য পার্টিজান লোক ওপেন সিক্রেট হলেও উপাচার্য তা প্রকাশ করতে পারেন না। আবার এদিকে সরকার পুতুল নিয়ন্ত্রণের মত সুতো টানলেও সব সময় সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। যেমন জাবি ইস্যুতে আন্দোলনকারীরা নজরদারিতে আছে, ব্যবস্হা নেয়া হবে ইত্যাদি বললেও সরকার তাদের আটক করেনি বলা যায় এই স্বায়ত্তশাসন থাকার কারণেই। কিংবা বর্তমান সময়ে এসে শিক্ষার্থীরা যে প্রায়ই বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে পারেন তাও এর কারণেই সম্ভব হচ্ছে বলে বোধ করি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের দীনতা আরো বেশী আমরা অনুভব করতে পারি এই মহামারীর বিপর্যয়ের সময়। স্বাস্হ্য খাতের করুণ অবস্থা, মন্ত্রী-আমলাদের সীমাহীন দুর্নীতির ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এর প্রতিবাদ করা চলছে না। প্রয়াত সাবেক স্বাস্হ্য মন্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেন বহু মানুষ। তবে, এরমধ্যে নগ্ন হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সরকারের ব্যবস্হা গ্রহণের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই মামলা থেকে শুরু করে বহিষ্কার অবধি করেছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে! এই ঘটনা থেকেও স্বায়ত্তশাসনের অসারতা সহজেই অনুমান করা যায়।

‘৭৩ এর অধ্যাদেশের স্বায়ত্তশাসন এক শুভঙ্করের ফাঁকি। তবুও, এটি এখনো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিছুটা হলেও রক্ষা করছে।  অনেকটা ‘মামা না থাকার চেয়ে কানা মামা থাকাও ভালো’ মতন অবস্থায়, নয় কি?

লেখক: শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে