April 21, 2021, 11:57 am


চাঁদপুরে জাটকা জেলেদের মাঝে ২০টি রিক্সাভ্যান বিতরণে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চাঁদপুরে মার্চ-এপ্রিল এ ২মাস জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ভ্যান বিতরণ কালে অনিয়ম ধরা পড়ায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তার আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি ধরা পড়ায় প্রকৃত জেলেরা তাদের রিক্সাা ভ্যান না পাওয়ায় তিনি ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি হচ্ছে,চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রতিটি রিকশাভ্যান তৈরিতে সরকারি ভাবে বরাদ্দ মিলেছে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরসহ পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় মোট ৪০টি রিকসাভ্যান বিতরণ করার সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশিাøস্ট কর্তৃপক্ষ জানান।

চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে পদ্মা ও মেঘনায় অভয়াশ্রমে সবধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
এ সময় কোন প্রকার মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ব ঘোষনা করেছেন সরকার। এতে করে চাঁদপুরের বেকার হয়ে পড়েছেন সরকারি তালিকা অনুযায়ী অর্ধ লাখের মত জেলে। কিন্তু তাদের মধ্যে অতিদরিদ্র জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেসব জলেদের মাঝে রিকসাভ্যান বিতরন করা হয়। রিকসাভ্যান বিতরণ কালে প্রকৃত জেলে নয়, এমন গড়মিল ধরা পড়েছে বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে কার্যক্রমটি স্থগিত ঘোষণা করে তাৎক্ষনিক তদন্তকমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক।

জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে নামতে পারছেন না জেলেরা। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন চাঁদপুরের প্রায় ৫২ হাজার ১শ’ ৯০ জন জেলে। ফলে নদীপাড়ে জাল বুনে অলস সময় পার করছেন জেলেদের অনেকে। শুধু তাই নয়, কোনো জেলে যেন জাটকা নিধন করতে না পারেন, তার জন্য নদীতে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সারি সারি করে রাখা হয়েছে,জেলেদের দেওয়ার জন্য রিকসাভ্যান। অতিদরিদ্র জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য বেশ কিছু রিকশাভ্যান নিয়ে আসে জেলা মৎস্যবিভাগ। কিন্তু এসব বিতরণে পাওয়া যায় অনিয়ম। তাই বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা তা বর্জন করেন। তবে রিকসাভ্যান যাদের জন্য বরাদ্দ, উপস্থিত এমন ব্যক্তিরাও স্বীকার করেছেন তারা কেউ প্রকৃত জেলে না।
এদের একজন মিজান হাওলাদার (৫০),তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ইচুলি গ্রামে তার বাড়ি পেশায় মাটিকাটা শ্রমিক। আরেকজন একই উপজেলার তরপুরচন্ডি এলাকার কৃষক আলী খান (৬০), আরেক জন হচ্ছে শহরের ৩নং কয়লাঘাটের বিল্লাল হোসেন (৫২)। এরা তিনজন স্বীকার করেছে, তারা কেউ জাটকা জেলে অর্থাৎ পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করেন না। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে জেলে তালিকায় তাদের নাম এসেছে। এসব নিয়ে কেহ সেসময় মুখ খোলেননি।

এ বিষয়ে, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী এমন অনিয়মের দায় চাপালেন জেলে নেতাদের গাড়ে। অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম বেপারী দায়সাড়া মিল দিয়ে অনিয়ম স্বীকার করে জন প্রতিনিধিদের দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেন, আজ বুধবার যে ২০ জন জেলেকে এখানে রিকসাভ্যান বিতরণের জন্য নিয়ে আনা হয়েছে, তার মধ্যে দুইজন রয়েছে সঠিক জেলে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। রিকসাভ্যান বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মো: জিল্লুর রহমান জুয়েল । তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই সঠিক ভাবে ভেবে দেখা দরকার। কারণ, সরকারের অর্থ অপচয় করার কোনো সুযোগ নেই।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতে এমন অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য আজ বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজীদা শাহনাজকে প্রধান এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামালউদ্দিনকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বুধবার থেরেক ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি অনিয়ম খুঁজে বেড় করে তা জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোট আকারে প্রকাশ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে